রাজকোষ ঘাটতিকে বেঁধে রাখতে মরিয়া কেন্দ্রীয় সরকার। কিন্তু তার জন্য অবাস্তব লক্ষ্যমাত্রা ধরে এগোলে হিতে বিপরীত হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মূলধনী বাজারের লগ্নিকারীরা। সেই সঙ্গেই তাদের সুপারিশ: খরচ করতে হবে মেপে, ছাঁটাই করতে হবে ভর্তুকি, রাজস্ব বাড়াতে ঢেলে সাজতে হবে কর ব্যবস্থা।
বাজার বিশেষজ্ঞদের ধারণা, রাজকোষ ঘাটতি জাতীয় আয়ের৪ শতাংশের আশেপাশে রাখাই যুক্তিসঙ্গত। তা খুব বেশি কমিয়ে ধরা হলে সরকারের পুরো পরিকল্পনাই ভেস্তে যেতে পারে। সেই সঙ্গে মূলধনী বাজারেও তা বিরূপ প্রভাব ফেলবে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের আশঙ্কা। বিশেষ করে সরকারি ঋণপত্রের চাহিদা সে ক্ষেত্রে কমবে এবং তলানিতে নেমে আসবে তার দাম, যা সরকারের ঘাটতি মেটানোর পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিয়েছেন, অর্থনীতি এই দুষ্টচক্রের কবলেই পড়েছিল বিগত ইউপিএ সরকারের আমলে।
সে সময়ে বাজেট ছাড়াও অনেক ক্ষেত্রেই বছরের মাঝামাঝি সময়ে আচমকা ঘাটতির লক্ষ্যমাত্রা সংশোধন করত কেন্দ্র। তখনই অবাস্তব লক্ষ্যমাত্রা স্থির করত তারা, যা দূরে সরিয়ে দিয়েছে বিশেষ করে ঋণপত্রের লগ্নিকারীদের। এমনকী মোদী সরকার ক্ষমতায় এসে জুলাইয়ের বাজেটে যখন রাজকোষ ঘাটতির লক্ষ্যমাত্রা আগের সরকারের স্থির করা ৪.১ শতাংশেই বেঁধে রাখল, তখনও পড়তে থাকে ঋণপত্রের দর। কারণ, মূলধনী বাজার বুঝতে পেরেছিল, বাস্তবে তা সম্ভব হবে না।
কোন খাতে কত খরচ ও রাজস্ব আদায় করা যাবে, সে হিসাবও করে নিতে হবে। যেমন এলআইসি নোমুরা মিউচুয়াল ফান্ডের সিনিয়র ডেট ফান্ড ম্যানেজার কল্লোল পাণ্ড্য বলেন, “জমা-খরচের হিসাব ঠিক থাকলে বাজারও কেন্দ্রের পাশে থাকবে। না-হলে হাত গুটিয়ে নেবে বহু আর্থিক সংস্থাই।” সিঙ্গাপুরে এএনজেডের বিশেষজ্ঞ কুমার রচপুডি বলেছেন, সরকারি খরচ যুক্তিসঙ্গত হওয়াটাই জরুরি।
খুচরো মূল্যবদ্ধি সামান্য বাড়লেও তা নিয়ন্ত্রণে থাকায় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক সুদ কমাবে বলেও আশাবাদী বিশেষজ্ঞরা। সেই কারণে ১০ বছর মেয়াদি বন্ডের দাম গত দেড় বছরে সর্বোচ্চ অঙ্কে পৌঁছয় মঙ্গলবারই। সব মিলিয়ে অর্থনীতির হাল ফেরার ইঙ্গিত পেলে চাঙ্গা থাকবে মূলধনী বাজারও।