পশ্চিমবঙ্গে ২০৭টি আসনে জয়ী বিজেপি। তৃণমূল জয়ী ৮০টি আসনে। রাজ্যের বিধানসভা আসনের সংখ্যা ২৯৪ হলেও ফলতায় পুনর্নির্বাচন হচ্ছে। সে কারণে সোমবার ২৯৩টি আসনে ভোটগণনা হয়েছে। তার মধ্যে কংগ্রেস দু’টি, সিপিএম একটি, আইএসএফ একটি এবং আমজনতা উন্নয়ন পার্টি (এজেইউপি) দু’টি আসনে জয়ী হয়েছে।
কমিশনের পরিসংখ্যান অনুসারে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ভোট পেয়েছে ৪৫.৮৪ শতাংশ। তৃণমূলের ভোটের হার ৪০.৮০ শতাংশ। কংগ্রেস পেয়েছে ২.৯৭ শতাংশ ভোট। সিপিএমের ভোটের হার ৪.৪৫ শতাংশ। নোটাতে পড়েছে ০.৭৯ শতাংশ ভোট। অন্যেরা ৪.২৬ শতাংশ ভোট পেয়েছে।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছিল তৃণমূল। ২১৫টি আসনে তারা জিতেছিল। বিজেপি পেয়েছিল ৭৭টি আসন। এ ছাড়া, দু’টি আসনে জয় পেয়েছিল অন্যেরা।
২৯৪ আসনের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় গত ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল দুই দফায় ভোটগ্রহণ হয়। কিন্তু দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতায় নির্বাচনী অপরাধ এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ভঙ্গের অভিযোগে সমগ্র বিধানসভার ভোট বাতিল করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ওই কেন্দ্রে ফের ভোট হবে ২১ মে। গণনা হবে ২৪ মে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার মগরাহাট পশ্চিম এবং ডায়মন্ড হারবারেও নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ উঠেছিল। ওই দুই বিধানসভার ১৫টি বুথে কমিশন পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দেয়। ২ মে, শনিবার বুথগুলিতে পুনর্নির্বাচন হয়।
আরও পড়ুন:
এসআইআর-পরবর্তী নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে ভোটের হার নজিরবিহীন। ৯২.৮৫ শতাংশ ভোট পড়েছে দুই দফা মিলিয়ে। শুধু পশ্চিমবঙ্গের জন্যই নয়, সারা দেশের ভোটদানের নিরিখে এই হার সর্বোচ্চ। ২০২১ সালে এ রাজ্যে ভোটের হার ছিল ৮২.১৭ শতাংশ।
২০২১ সালে পশ্চিমবঙ্গে মোট ভোটার ছিল ৭.৩৪ কোটি। এসআইআর-এর পর ২০২৬ সালে ৫১ লক্ষ ভোটার কমেছে। এখন ভোটারের সংখ্যা ৬.৮২ কোটি। তবে ২০২১ সালে ভোট দিয়েছিলেন ৬.০৩ কোটি মানুষ। এ বার ভোট দিয়েছেন ৬.৩৩ কোটি মানুষ। অর্থাৎ, মোট ভোটারের সংখ্যা কমলেও ভোটের হার বেড়েছে। নাম বাদ যাওয়ার ভয়ে অনেকে দূরদূরান্ত থেকে শুধু ভোট দিতে এসেছেন। ২০২১ সালের তুলনায় বিধানসভা প্রতি এ বার গড়ে ভোটদান বৃদ্ধি পেয়েছে ১০ হাজার।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
২০:২৯
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার? -
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা
-
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
সিসিটিভি বন্ধ করে গণনাকেন্দ্রে শারীরিক নিগ্রহের অভিযোগ মমতার! ‘অসত্যভাষণ’ বলে ওড়ালেন নির্বাচনী আধিকারিক