খালেদা জিয়া। ছবি: সংগৃহীত।
প্রায় দু’মাস আগে জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনে এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে লন্ডন নিয়ে যাওয়া হয়েছিল তাঁকে। কিছুটা সুস্থ হয়ে ওঠার পরে বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তথা বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া লন্ডন থেকে দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে ভার্চুয়াল বক্তৃতা করলেন। বললেন, ‘‘আগামী দিনে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’’
পুরোপুরি সুস্থ হলে পুত্র তারেককে নিয়ে খালেদা বাংলাদেশে ফিরবেন বলে জল্পনা রয়েছে। এই আবহে তিনি গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার লড়াইয়ের বার্তা দিয়েছেন। ভার্চুয়াল বক্তৃতায় বলেছেন, ‘‘সকলে মিলে ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’’ সরাসরি কারও নাম না নিলেও জাতীয় সংসদের ভোট ঘোষণায় টালবাহানার জন্য মূহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারকে খালেদা নিশানা করেছেন বলে অনেকেই মনে করছেন।
গত অগস্টের ৮ তারিখে মুহাম্মদ ইউনূসের সরকার শপথ নেওয়ার পরেই বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদার বিরুদ্ধে সব মামলা তুলে নেওয়া হয়। তাঁর কারাদণ্ড মকুব করে দেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। অন্য দিকে, শেখ হাসিনার জমানায় গ্রেফতারি এড়াতে লন্ডনে স্থায়ী ভাবে বসবাস শুরু করেছিলেন তারেক। প্রসঙ্গত, গত ৫ অগস্ট জনবিক্ষোভের জেরে প্রধানমন্ত্রী পদে ইস্তফা দিয়ে হাসিনা দেশ ছাড়ার তিন দিন পরে অন্তর্বর্তী সরকারের মুখ্য উপদেষ্টার দায়িত্ব নিয়েছিলেন ইউনূস। তার পর থেকেই ধারাবাহিক ভাবে দ্রুত নির্বাচন চেয়ে তাঁর উপর চাপ দিয়ে চলেছে বিএনপি।
গত ২৫ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবসের আগের দিন জাতির উদ্দেশে ভাষণে ইউনূস জানিয়েছিলেন, চলতি বছরের ডিসেম্বর থেকে আগামী বছরের জুনের মধ্যে জাতীয় সংসদের নির্বাচনের আয়োজন করা হবে। কিন্তু তার পরেই দ্রুত নির্বাচনের দাবিতে সরব হয়েছেন বিএনপি নেতৃত্ব। দলের অন্যতম মুখপাত্র তথা সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণ কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান সোমবার বলেন, ‘‘ঠিক সময়ে নির্বাচন না হলে, জনগণের মধ্যে জোরালো অসন্তোষ দেখা দেবে। যার পরিণতিতে দেশে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।’’ এই আবহে দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে খালেদা বলেন, ‘‘আপনাদের এত ত্যাগ ও সংগ্রাম বৃথা যায়নি এবং যাবে না। দেশবাসীর ভোটাধিকার সকলে মিলে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’’