পুলিশের এই গাড়িতে হামলা হয়েছিল। —ফাইল চিত্র।
ডোমকলে পুলিশকে হাঁসুয়া দিয়ে কোপানোর অভিযোগে আরও এক জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত হাফিজুল শেখ রায়পুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান মিনা বিবির স্বামী। ডোমকলের ঘটনায় আগেই গ্রেফতার করা হয় মিনাকে। তবে ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিলেন হাফিজুল। কিন্তু এখনও অধরা মূল অভিযুক্ত রানা শেখ ওরফে সোহেল রানা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গয়না চুরির ঘটনায় রানা শেখ নামে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছিল। রানাকে নিয়ে তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালাতে যাচ্ছিলেন তদন্তকারীরা। অভিযোগ, সেই সময় ডোমজুড়ের বিলাসপুর ঘাটপাড়া এলাকায় অভিযুক্তের বাবা, মা-সহ এলাকার কয়েক জন পুলিশের উপর চড়াও হন। গাড়ি ভাঙচুর করে আসামিকে ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যান তাঁরা। পুলিশ সূত্রে খবর, তাঁদের বাধা দিতে গিয়ে জখম হন এসআই রানাপ্রতাপ সেনগুপ্ত। ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিলেন হাফিজুল।
পুলিশ এই ঘটনায় আগেই চার জনকে গ্রেফতার করে। তার পর খোঁজ শুরু হয় হাফিজুলের। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে শনিবার রাতে ডোমকল থানা এলাকার একটি জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে হাফিজুলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ধৃতকে নিজেদের হেফাজতে চেয়ে রবিবার বহরমপুর আদালতে আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছেন ডোমকল মহকুমার পুলিশ আধিকারিক রসপ্রীত। তবে তিনি এ-ও জানান, পলাতক রানা শেখের খোঁজ চলছে।
পুলিশের উপর আক্রমণ এবং গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ ওঠে রায়পুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান মীনা বিবি এবং তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে। ওই ঘটনার পর বুধবার রাতেই বিশাল পুলিশবাহিনী অভিযান চালায় ওই গ্রামে। চার জনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার হন মিনাও।
উল্লেখ্য, বুধবার ইসলামপুর আদালতে হাজির করানো হয়েছিল একটি অপরাধের মামলায় যুক্ত দুই আসামিকে। শুনানি শেষে দু’জনকে নিয়ে আবার রায়গঞ্জ জেলে যাচ্ছিল পুলিশ। পুলিশের ভ্যানটি গোয়ালপোখরের পাঞ্জিপাড়া এলাকায় যখন আসে, তখন আচমকা গুলি চলে। তাতে দুই পুলিশকর্মী জখম হন। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ঘটে ডোমকলের ঘটনা। শনিবার আদালত থেকে জেলে ফেরার পথে গোয়ালপোখরে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনায় মূল অভিযুক্ত সাজ্জাক আলমের মৃত্যু হয়। পুলিশের গুলিতেই মৃত্যু হয় খুনের মামলায় বিচারাধীন সাজ্জাকের।