BJP MLA’s Rebellion

‘বিদ্রোহী’ আরও এক বিজেপি বিধায়ক! সাংগঠনিক সব দায়িত্ব ছাড়ার ঘোষণা সমাজমাধ্যমে

বিধানসভা নির্বাচনের এক বছর বাকি। সম্প্রতি হলদিয়ার বিজেপি বিধায়ক তাপসী মণ্ডল দলত্যাগ করে তৃণমূলে যোগদান করেছেন। এ বার কুমারগ্রামের বিধায়কের ‘বিদ্রোহী’ পোস্ট ফের বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের অস্বস্তি বাড়াল।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০১ এপ্রিল ২০২৫ ২০:৪১
BJP MLA from Kumargram Manoj Oraon expresses discontent with party, Declares renouncement of all organisational responsibilities

কুমারগ্রামের বিজেপি বিধায়ক মনোজ ওরাওঁ। —ফাইল চিত্র।

দক্ষিণবঙ্গে বিধায়কের দলত্যাগের রেশ এখনও কাটেনি। তার মধ্যেই উত্তরবঙ্গে আর এক বিজেপি বিধায়ক ‘বেসুরো’। দল ছাড়ার কথা এখনও বলেননি। কিন্তু বিজেপির সব সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে ‘অব্যাহতি’ নিচ্ছেন বলে সমাজমাধ্যমে জানিয়ে দিলেন কুমারগ্রামের বিজেপি বিধায়ক মনোজ ওরাওঁ। সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে তিনি শুভেন্দু অধিকারী এবং দিলীপ ঘোষের প্রশংসা করেছেন। কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে তার পরের লাইনেই বিধায়ক লিখেছেন ‘‘কয়েক জন নেতা ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করতে উঠেপড়ে লেগেছেন।’’ কুমারগ্রামের বিজেপি বিধায়কের কথায়, ‘‘আলিপুরদুয়ার জেলায় দলের ফল খারাপ হলে সেই নেতাদেরই দায় নিতে হবে।’’

Advertisement

বিধানসভা নির্বাচনের এক বছর আগে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব যখন রাজ্য বিজেপির ঘর গুছিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন, তখনই হলদিয়ার বিধায়ক তাপসী মণ্ডলের দলত্যাগ এবং তৃণমূলে যোগদানের ঘটনা ঘটে। এ বার কুমারগ্রামের বিধায়কের ‘বিদ্রোহী’ পোস্ট ফের রাজ্য বিজেপির শীর্ষনেতাদের অস্বস্তি বাড়িয়ে দিল। ‘বিদ্রোহী’ মনোজ লিখেছেন, ‘‘শুভেন্দু অধিকারী ও দিলীপ ঘোষ বাংলায় পরিবর্তন আনতে জান-প্রাণ লাগিয়ে দিচ্ছেন। কয়েকজন নেতা ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করতে উঠেপড়ে লেগেছেন। সাধারণ কর্মীদের ভাবাবেগে আঘাত করে ও তাঁদের পছন্দের বিরুদ্ধে (গিয়ে) চাটুকারিতাকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন।’’ মনোজ ওই পোস্টেই লিখেছেন যে, তিনি দলের কোনও দায়িত্বে থাকতে চান না। তাঁর কথায়, ‘‘এই পরিবেশে দলের কোনও পদে থাকতে পারছি না। তাই সব দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি নিলাম। একজন সাধারণ কর্মী হিসেবে বিজেপিতে থাকব।’’ নজরে পড়ার মতো বিষয় হল, শুভেন্দু, দিলীপের প্রশংসা করছেন মনোজ কিন্তু সেই তালিকায় দলের রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের নাম নেই। বিজেপির একটি অংশ অবশ্য মনে করছে, মনোজের মূল নিশানা সুকান্ত নন, সংগঠনের অন্য দু’জন শীর্ষনেতা।

BJP MLA from Kumargram Manoj Oraon expresses discontent with party, Declares renouncement of all organisational responsibilities

মনোজের সমাজমাধ্যম পোস্ট। ছবি: সংগৃহীত।

কেন হঠাৎ রাজ্য নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তোপ দেগে এমন পোস্ট উত্তরবঙ্গের বিজেপি বিধায়কের? বিজেপি নেতাদের কেউই সে বিষয়ে মুখ খুলতে চাইছেন না। কিন্তু বিজেপি সূত্রের খবর, আলিপুরদুয়ার জেলা বিজেপির সম্ভাব্য সভাপতির নাম মনোজের পছন্দ নয়। তাই আনুষ্ঠানিক ভাবে সে নাম ঘোষিত হওয়ার আগেই মনোজ হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখলেন। মার্চের মাঝামাঝি ২৫টি সাংগঠনিক জেলার নতুন সভাপতির নাম বিজেপি ঘোষণা করে দিয়েছিল। বিজেপি সূত্রের খবর, সোমবার আরও আটটি জেলার সভাপতি নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা নেওয়া হয়েছে। সে তালিকায় মনোজের নিজের জেলা আলিপুরদুয়ারও রয়েছে। সেখানে মাত্র একজনকেই মনোনয়ন জমা করতে দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ যাঁর মনোনয়ন জমা পড়েছে, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তিনিই নির্বাচিত হিসেবে ঘোষিত হবেন। সে নাম মনোজ-সহ জেলা বিজেপির অনেকেরই অপছন্দের বলে বিজেপি সূত্রে জানা যাচ্ছে। কিন্তু সেই অংশের আপত্তিকে গুরুত্ব না-দিয়ে সংগঠনের নিয়ন্ত্রকেরা নিজেদের পছন্দের লোককেই জেলা সভাপতি পদে বসানোর তোড়জোড় সেরে ফেলেছেন। তার বিরুদ্ধেই মনোজের বিদ্রোহ বলে বিজেপির একাংশের দাবি।

মনোজের ‘বিদ্রোহী’ মেজাজ সম্পর্কে মন্তব্য করতে চাননি বিরোধী দলের মুখ্য সচেতক শঙ্কর ঘোষ। তাঁর কথায়, ‘‘মনোজ আমার বন্ধুস্থানীয় বিধায়ক। আমি নিশ্চিত যে, চা শ্রমিকদের হয়ে এবং নিজের এলাকার মানুষের দাবিদাওয়া নিয়ে বিধানসভার ভিতরে-বাইরে উনি যে লড়াই করে যান, তা জারি থাকবে। সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে তাঁর যদি কোনও বক্তব্য থেকে থাকে, নিশ্চয়ই সে বিষয়ে দলের নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর কথা হবে।’’ উত্তরবঙ্গের আর এক নেতা তথা রাজ্য বিজেপির অন্যতম সহ-সভাপতি রথীন্দ্রনাথ বসুও মনোজের বিষয়ে মন্তব্যের প্রশ্নে সাবধানী। তিনি বলছেন, ‘‘মনোজ অত্যন্ত পরিশ্রমী নেতা। তাঁর উপরে দলের অনেক দায়িত্ব রয়েছে। উত্তরবঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলায় দলের কাজ তিনি সামলান। উনি দলেই থাকবেন। সব দায়দায়িত্ব সামলাবেন।’’ কিন্তু মনোজ তো ঘোষণা করে দিয়েছেন যে, তিনি কোনও দায়িত্ব নিতে পারবেন না। রথীন বলছেন, ‘‘সাময়িক অসন্তোষ থাকতে পারে। সব মিটে যাবে।’’

Advertisement
আরও পড়ুন