
পরিবারের সকলেই বলিপাড়ার সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত। নবাগত অভিনেতা হিসাবে তারকা-সন্তান প্রশংসা পেলেও তাঁর কেরিয়ারের ঝুলিতে একটিও হিট ছবি নেই। বলিউডের ব্যর্থ তারকাদের তালিকায় নাম উঠে গিয়েছে তাঁর। অভিনয়ের দিক থেকে না পারলেও সম্পত্তির দিক থেকে বলিউডের অধিকাংশ তারকাকে টেক্কা দিয়েছেন গিরিশকুমার তৌরানি।

১৯৮৯ সালের জানুয়ারি মাসে মহারাষ্ট্রের মুম্বইয়ে জন্ম গিরিশের। বাবা-মা এবং ভাইয়ের সঙ্গে মুম্বইয়ে শৈশব কাটিয়েছেন তিনি। তার পর ইংল্যান্ডের একটি বোর্ডিং স্কুলে ভর্তি করানো হয় তাঁকে।

গিরিশের বাবা-মা দু’জনেই প্রযোজনার কাজের সঙ্গে যুক্ত। তাঁর ভাই পেশায় অভিনেতা। তা ছাড়াও পরিবারের অন্য সদস্যদের কেউ ছবি পরিচালনা করেন, কেউ আবার পোশাক নকশাশিল্পী হিসাবে কাজ করেন।

১৯৭৫ সালে গিরিশের বাবা কুমার এস তৌরানি তাঁর ভাই রমেশ তৌরানির সঙ্গে হাত মিলিয়ে একটি সংস্থা গড়ে তোলেন। বর্তমানে এই সংস্থা বলিপাড়ার সঙ্গীত এবং ছবির প্রযোজনা সংস্থা হিসাবে জনপ্রিয়। কিন্তু পারিবারিক ব্যবসায় হাত না লাগিয়ে অভিনয় নিয়ে কেরিয়ার গড়তে চান গিরিশ।

ছোটবেলা থেকেই হিন্দি ছবি দেখতে পছন্দ করতেন গিরিশ। বলিপাড়া সূত্রে খবর, ১৯৯৮ সালে মুক্তি পাওয়া ‘প্যার কিয়া তো ডরনা কয়া’ ছবিতে সলমনের অভিনয় দেখে মুগ্ধ হয়ে যান তিনি। তার পরেই অভিনয় নিয়ে কেরিয়ার তৈরির স্বপ্ন দেখেন গিরিশ।

ইংল্যান্ডের ওয়েলিংটন কলেজ থেকে পড়াশোনা শেষ করেন গিরিশ। অভিনয় করবেন বলে আমেরিকা থেকে প্রশিক্ষণও নেন। তার পর আবার মুম্বইয়ে ফিরে যান।

বলিউডের গুঞ্জন, কিশোর বয়স থেকে ওজন স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি ছিল গিরিশের। তাই অভিনয় নিয়ে কেরিয়ার শুরুর সময় শরীরচর্চার দিকে বিশেষ মন দিয়েছিলেন তিনি।

কানাঘুষো শোনা যায়, গিরিশের ওজন কমানোর জন্য তাঁর বাবা দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে এক প্রশিক্ষককে আনিয়েছিলেন। তাঁর প্রশিক্ষণে শরীরচর্চা করে ওজন কমিয়ে ফেলেন গিরিশ। জনপ্রিয় নৃত্যশিল্পী প্রভুদেবার নির্দেশ মেনে আট মাস নাচও শেখেন তারকাসন্তান।

২০১৩ সালে প্রভুদেবার পরিচালনায় প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় ‘রমইয়া বস্তবইয়া’ নামের একটি হিন্দি ছবি। এই ছবির হাত ধরে বলিপাড়ায় আগমন গিরিশের। অভিনেত্রী শ্রুতি হাসনের বিপরীতে জুটি বেঁধে অভিনয় করেন গিরিশ। গিরিশের বাবা এই ছবি প্রযোজনার দায়িত্বে ছিলেন।

গিরিশের কেরিয়ারের প্রথম ছবি বক্স অফিসে তেমন লক্ষ্মীলাভ করতে না পারলেও ছবির গানগুলি জনপ্রিয়তা পায়। নবাগত তারকা হিসাবে গিরিশও সমালোচকমহলে প্রশংসা পান।

অভিনয়ের জন্য প্রশংসা পেলেও কাজের সুযোগ তেমন পাননি গিরিশ। প্রথম ছবি মুক্তির তিন বছর পর ২০১৬ সালে ‘লবশুদা’ নামের একটি হিন্দি ছবিতে মুখ্যচরিত্রে অভিনয় করতে দেখা যায় গিরিশকে। কিন্তু সেই ছবি কবে যে মুক্তি পেল, কবে যে প্রেক্ষাগৃহ থেকে বিদায় নিল তা নিয়ে দর্শকও বিশেষ আগ্রহ দেখাননি।

২০১৮ সালে ‘কোল্যাটারাল ড্যামেজ’ নামে স্বল্পদৈর্ঘ্যের ছবিতে অভিনয় করেন গিরিশ। বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসবে সেই ছবি দেখানো হয়। তবে তাতে গিরিশের কেরিয়ারে খুব একটা লাভ হয় না।

পর পর ছবিতে অভিনয় করেও সফল হচ্ছিলেন না গিরিশ। তাই ২৭ বছর বয়সে অভিনয়জগৎ থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। ২০১৮ সালের পর আর কোনও ছবিতে তাঁর অভিনয় দেখা যায়নি।

অভিনয় ছেড়ে পারিবারিক ব্যবসায় যোগ দেন গিরিশ। সে কারণেই তাঁর সম্পত্তির পরিমাণও লাফিয়ে লাফিয়ে বৃদ্ধি পায়। বলিপাড়া সূত্রে খবর, গিরিশের মোট সম্পত্তির পরিমাণ ৪৭০০ কোটি টাকা।

দামি ঘড়ি সংগ্রহ করার শখ রয়েছে গিরিশের। তাঁর গ্যারাজে রয়েছে মার্সিডিজ় বেঞ্জ, হন্ডা সিটি এবং রেঞ্জ রোভারের মতো দামি ব্র্যান্ডের গাড়ি।

২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে দীর্ঘকালীন প্রেমিকা কৃষ্ণা মাঙ্গওয়ানির সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধেন গিরিশ। বর্তমানে স্ত্রী-কন্যাকে নিয়ে মুম্বইয়ে থাকেন তারকাপুত্র।
সব ছবি: সংগৃহীত।