মেনিনজাইটিসের কোন কোন লক্ষণ দেখে সতর্ক হবেন? ছবি: ফ্রিপিক।
মেনিনজাইটিসের সংক্রমণ বেড়ে চলেছে। ছোটদেরও ধরা পড়ছে। ঋতুবদলের সময়ে ভাইরাস, টিউবারকিউলোসিস-সহ ব্যাক্টেরিয়া, ছত্রাক বা অন্যান্য জীবাণুর সংক্রমণ থেকে মেনিনজাইটিস হতে পারে। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা খুব কম থাকলে এই ধরনের অসুখের আশঙ্কা বাড়ে। তাই রোগটি থেকে সাবধান থাকা খুব জরুরি।
কেন হয় মেনিনজাইটিস?
মেনিনজাইটিস একটি স্নায়ুঘটিত রোগ। এ ক্ষেত্রে যদি চিকিৎসা শুরু করতে দেরি করা হয়, তা হলে রোগীর সুস্থ, স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সমস্যা হতে পারে। মেডিসিনের চিকিৎসর অরুণাংশু তালুকদার জানাচ্ছেন, মস্তিষ্কের ফুলে ওঠা বা সেখানে সংক্রমণ হলে সেই রোগের নাম দেওয়া হয়েছে এনসেফালাইটিস। আর মেনিনজাইটিস-এর কারণে এমন হলে তাকে মেনিনগো এনসেফালাইটিস-ও বলে। বেশির ভাগই এই রোগে ভোগেন।
কী ভাবে বুঝবেন মেনিনজাইটিস হয়েছে?
এই রোগে আক্রান্ত হলে জ্বর হয়, সঙ্গে প্রচণ্ড মাথাব্যথা, ঘন ঘন বমি, খিঁচুনি ধরতে পারে মাঝেমধ্যেই এবং ধীরে ধীরে তিনি নিস্তেজ হয়ে পড়েন রোগী। এগুলি ছাড়াও আরও দু’-একটি লক্ষণ দেখা যায়— যেমন, ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া। মেনিনগোকক্কাল ব্যাক্টেরিয়ার কারণে সদ্যোজাত বা শিশুদের মেনিনজাইটিস হলে গায়ে র্যাশ বেরোয়। ঘন ঘন জ্বর আসতে থাকে, বমিও হয়। শ্বাসনালিতে সংক্রমণ দেখা দেয়। অনেক সময়ে সেপ্টিসেমিয়াও হতে দেখা যায়।
সারবে কিসে?
মেনিনজাইটিস নির্ণয় করার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দু’টি পরীক্ষা হল এমআরআই অথবা সিটি স্ক্যান। মেনিনজাইটিস হলে নিজে থেকে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া উচিত নয়। কারণ রোগটি ভাইরাস না ব্যাক্টেরিয়া- ঘটিত, তা চিকিৎসকই পরীক্ষা করে বুঝবেন। সেই অনুযায়ী ওষুধ দেওয়া হবে। এখন প্রচুর অ্যান্টিব্যাক্টিরিয়াল, অ্যান্টিফাঙ্গাল, অ্যান্টিভাইরাল ওষুধও বেরিয়ে গিয়েছে, যার ফলে রোগীদের সুস্থ করে তোলা সম্ভব হচ্ছে। তবে পুরোটাই নির্ভর করছে, কত তাড়াতাড়ি রোগ নির্ণয় করা হচ্ছে, তার উপরে।