সৌরভ রাজপুতের সঙ্গে মেরঠকাণ্ডে অভিযুক্ত মুস্কান রাজপুত। —ফাইল চিত্র।
মার্চেন্ট নেভি অফিসার সৌরভ রাজপুতকে খুনের জন্য একটি বিশেষ ঘুমের ইঞ্জেকশন ব্যবহার করেছিলেন তাঁর স্ত্রী মুস্কান! মেরঠকাণ্ডের তদন্তে এমনই অভিযোগ উঠে আসছে। পুলিশ সূত্রে খবর, মেজ়োলাম নামে একটি ঘুমের ইঞ্জেকশন কিনেছিলেন সৌরভের স্ত্রী। ৩৩ টাকা দামের ওই ঘুমের ইঞ্জেকশনটি তিনি স্বামীর শরীরে প্রয়োগ করেছিলেন বলে অভিযোগ।
মেরঠকাণ্ডের তদন্তে আগেই একটি জাল প্রেসক্রিপশনের তত্ত্ব উঠে এসেছিল। অভিযোগ, ওই জাল প্রেসক্রিপশনটি ব্যবহার করেই ঘুমের ওষুধ কিনেছিলেন মুস্কান। সেই সূত্র ধরে মেরঠের খৈরনগর এলাকায় একটি ওষুধের দোকানে হানা দেয় পুলিশ। দুই বিভাগীয় আধিকারিকের নেতৃত্বে ওই অভিযানে উঠে আসে এই ইঞ্জেকশনের প্রসঙ্গ। তল্লাশির সময়ে ওষুধের দোকানের কর্মীদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্তকারীরা। তাতে জানা যায়, মোবাইলে একটি প্রেসক্রিপশনের ছবি নিয়ে ওষুধের দোকানে গিয়েছিলেন মুস্কান। সেই দেখেই ওষুধপত্র দিয়েছিলেন ওই দোকানের কর্মী। ওষুধের দোকানের ওই কর্মীর দাবি, মুস্কান বেশ কিছু ঘুমের ওষুধ কিনেছিলেন। তার মধ্যে ছিল মেজ়োলাম নামে ওই ইঞ্জেকশনটিও।
ওষুধের দোকানের কর্মীর বক্তব্য, মুস্কানের আচরণে সন্দেহজনক বলে কিছু মনে হয়নি তাঁর। দোকান থেকে কোনও রকম বেআইনি কাজকর্ম হয়নি বলেও দাবি ওই ব্যক্তির। যদিও মেরঠের ওই ওষুধের দোকানের রশিদের নথিপত্র, মজুত থাকা ওষুধ এবং হিসাবপত্র খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। দোকানের মালিককে ইতিমধ্যে জিজ্ঞাসাবাদও করেছে পুলিশ। তদন্তকারী দলের অনুমান, সৌরভকে প্রথমে কড়া ডোজ়ের ঘুমের ওষুধ দিয়েছিলেন মুস্কান। ওষুধের প্রভাবে সৌরভ ঝিমিয়ে পড়লে তাঁকে ইঞ্জেকশনও দেওয়া হয়েছিল। তার পর খুন করা হয় সদ্য বাড়ি ফেরা ওই মার্চেন্ট নেভি অফিসারকে।
গত ২৫ ফেব্রুয়ারি মুস্কানের জন্মদিন ছিল। স্ত্রীকে চমকে দেওয়ার জন্য তাঁকে না জানিয়েই আগের দিন (২৪ জানুয়ারি) লন্ডন থেকে মেরঠের বাড়িতে চলে আসেন সৌরভ। ওই দিন হইহুল্লোড় করে মুস্কানের জন্মদিন পালন করেন তিনি। কয়েক দিন পরে তাঁদের মেয়েরও জন্মদিন ছিল। সেই দিনটিও পরিবারের সঙ্গেই কাটান সৌরভ। এর পরে সুযোগ বুঝে সৌরভকে মদের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে অচৈতন্য করে খুন করার পরিকল্পনা করেন মুস্কান এবং তাঁর প্রেমিক। সেইমতো স্থানীয় এক ওষুধের দোকান থেকে কিনে ফেলেন ওষুধও। এ ধরনের ওষুধ সাধারণত চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া বিক্রি করা হয় না। সে জন্য আগেই স্বামীর একটি প্রেসক্রিপশন সরিয়ে ফেলেন মুস্কান। তার পর নিজে হাতে ওষুধের নামটি লিখে ফেলেন তাতে। শেষে গত ৪ মার্চ ঘুমন্ত অবস্থায় সৌরভকে খুন করেন মুস্কান। সঙ্গী ছিলেন তাঁর প্রেমিক সহিল।