—প্রতীকী ছবি।
বেসরকারি সংস্থার কর্মীদের জন্য সুখবর। চলতি বছরের মে-জুন মাস থেকে এমপ্লয়িজ় প্রভিডেন্ট ফান্ড (ইপিএফ) থেকে ইউনিফায়েড পেমেন্টস ইন্টারফেস বা ইউপিআইয়ের মাধ্যমে টাকা তুলতে পারবেন তাঁরা। ইউপিআইয়ের নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা ন্যাশনাল পেমেন্টস কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়াকে (এনপিসিআই) এই সংক্রান্ত যাবতীয় অনুমোদন ইতিমধ্যেই দিয়েছে নরেন্দ্র মোদী সরকার।
সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে সংবাদমাধ্যমের কাছে মুখ খোলেন কেন্দ্রীয় শ্রমসচিব সুমিতা দাওরা। তাঁর কথায়, ‘‘মে-র শেষে বা জুন মাসের শুরুতে এমপ্লয়িজ় প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজ়েশন বা ইপিএফওর গ্রাহকেরা ইপিএফ থেকে টাকা তোলার ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা পাবেন। ইউপিআইয়ের মাধ্যমে সরাসরি এই তহবিলের ব্যালেন্স দেখতে পাবেন তাঁরা।”
উল্লেখ্য, ইপিএফের যাবতীয় কাজকর্ম দেখাশোনা করে এমপ্লয়িজ় প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজ়েশন (ইপিএফও)। সংশ্লিষ্ট সংস্থাটি আবার কেন্দ্রীয় শ্রম মন্ত্রকের আওতাধীনে রয়েছে। শ্রমসচিব দাওরা জানিয়েছেন, ‘‘ইপিএফও গ্রাহকেরা ইউপিআইতে এক লক্ষ টাকা পর্যন্ত তুলতে পারবেন। নিজের পছন্দমতো ব্যাঙ্কে ওই টাকা পাঠানো যাবে।’’
এ ছাড়া এটিএমের মাধ্যমে প্রভিডেন্ট ফান্ড তহবিল থেকে টাকা তোলার সুবিধা চালু করতে চলেছে কেন্দ্র। ইউপিআইয়ের সঙ্গেই এই পরিষেবা চালু করা হবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন কেন্দ্রীয় শ্রম মন্ত্রক। প্রভিডেন্ট ফান্ডের সঙ্গে ইউপিআইয়ের সংযুক্তিকরণকে আর্থিক বিশ্লেষকদের একাংশ ইপিএফওর সংস্কার কর্মসূচি বলে উল্লেখ করেছেন। এতে ৭৪ লক্ষ গ্রাহক উপকৃত হবেন বলে মনে করা হচ্ছে।
গত কয়েক বছর ধরেই গ্রাহকদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে ইপিএফওর ডিজিটাল সিস্টেমগুলি পুনর্গঠনে জোর দিয়েছে শ্রম মন্ত্রক। এই কাজে পূর্ণ সহযোগিতা করছে রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (আরবিআই)। এ ছাড়া বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কগুলিও প্রকল্পটির সঙ্গে জুড়ে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রভিডেন্ট ফান্ডের সঙ্গে ইউপিআই পরিষেবা যুক্ত হলে ইপিএফওর ডিজিটাল প্রক্রিয়াকরণের একটি বৃত্ত যে সম্পূর্ণ হবে, তাতে কোনও সন্দেহ নেই।
এ ব্যাপারে দাওরা বলেছেন, ‘‘ইপিএফও ডিজিটালাইজ়েশনের পথে অনেক দূর এগোনো গিয়েছে। আমরা ১২০টির বেশি ডেটাবেসকে এক জায়গায় নিয়ে এসেছি। ফলে বর্তমানে আবেদনকারীরা মাত্র তিন দিনে তহবিল থেকে টাকা তুলতে পারছেন। ৯৫ শতাংশ আবেদন স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে করা সম্ভব হচ্ছে।’’