(বাঁ দিকে) মুহাম্মদ ইউনূস। শাহবাজ় শরিফ (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।
বিমস্টেকের বৈঠকে আগামী বৃহস্পতিবার তাইল্যান্ডে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মুহাম্মদ ইউনূসের ‘দেখা’ হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে। কিন্তু তাঁদের মধ্যে কোনও পার্শ্ববৈঠক হচ্ছে কি?
পরিস্থিতি যে রকম ঘোরালো হচ্ছে, তাতে এখনও পর্যন্ত এই বৈঠকের সম্ভাবনা ক্রমশই ক্ষীণ হচ্ছে বলে মনে করেছেন কূটনৈতিক মহলের একাংশ। যদিও সাউথ ব্লকের তরফে সরকারি ভাবে এ নিয়ে মুখ খোলা হয়নি।
আজ ইদের শুভেচ্ছা জানাতে ইউনূসকে ফোন করেন খোদ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফ। পরে তিনি জানিয়েছেন, উভয় দেশের সম্পর্ককে আরও মজবুত করার ব্যাপারে তাঁদের মধ্যে কথা হয়েছে। তাঁর আশা, ইসলামাবাদ-ঢাকার মধ্যে ভবিষ্যতে সম্পর্কে আরও উজ্জ্বল হবে। পাক প্রধানমন্ত্রীর এই ইউনূস-ঘনিষ্ঠতাকে স্বাভাবিক ভাবেই সুনজরে দেখছে না নয়াদিল্লি। কারণ, গত কয়েক মাসে সে দেশে আইএসআইয়ের সক্রিয়তার সঙ্গে ভারত-বিরোধিতার সরাসরি যোগ রয়েছে বলে মনে করছেন গোয়েন্দারা। যদিও ইদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বাংলাদেশের সরকার এবং সে দেশের নাগরিকদের উদ্দেশে চিঠি দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও।
ইউনূসের সঙ্গে ফোনালাপের পরে সমাজমাধ্যমে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, ২২ এপ্রিল বাংলাদেশ সফরে যাবেন পাক উপপ্রধানমন্ত্রী ইশক দার। তাঁর সঙ্গে ব্যবসায়ীদের একটি প্রতিনিধি দলও যাবে।
ইউনূসের পাক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনালাপ এবং তাঁর সাম্প্রতিক চিন সফরের উপরে কড়া নজর রাখছে নয়াদিল্লি। তিনি যে ভাবে চিন ও পাকিস্তানের সঙ্গে সখ্য বাড়াতে তৎপর, তাতে মোদী সরকার যথেষ্ট হতাশ। আর তাই এই পরিস্থিতিতে ঢাকার আবেদন সাড়া দিয়ে বিমস্টেকে মোদী-ইউনূস পার্শ্ববৈঠকের সম্ভাবনা ক্রমশ কমছে বলেই মনে করেছেন বিদেশ মন্ত্রকের আধিকারিকেরা। ইউনূস দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ভারত বার বার বাংলাদেশে হিন্দু নিপীড়ন বন্ধের কথা জানিয়েছে। কিন্তু ইউনূস সরকার ওই ব্যাপারে কার্যত উদাসীনই। দ্বিতীয়, সম্প্রতি চিনে গিয়ে ইউনূস তিস্তা প্রসঙ্গ তুলেছেন, পরিকাঠামো উন্নয়ন ও দু’দেশের যোগযোগ বাড়ানোর কথা বলেছেন। তাঁর আমলে বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্ক ক্রমশ গতিশীল হচ্ছে।
সাউথ ব্লকের একটা বড় অংশের মতে, পাকিস্তান এবং চিনের সঙ্গে বাংলাদেশের অতিঘনিষ্ঠতা আসলে ভারতকে চাপে রাখার কৌশল। কারণ, পাকিস্তানের অর্থনীতির যা অবস্থা তাতে তারা বাংলাদেশকে তেমন ভাবে সাহায্য করতে পারবে না। বরং সে দেশের মাটিকে ব্যবহার করে ভারত-বিরোধী জঙ্গি তৎপরতা বাড়াতে মদত দেবে। আর বেজিং আর্থিক ভাবে ঢাকাকে সহায়তা করলেও, তারা যে ঋণের জালে জড়িয়ে ফেলবে না তার নিশ্চয়তা কোথায়। যার সাম্প্রতিক উদাহরণ শ্রীলঙ্কা।
সাউথ ব্লকের আর একটি অংশের যুক্তি, ইউনূস চিন ও পাকিস্তানের সঙ্গে সখ্য বাড়িয়ে ঘরোয়া রাজনীতিতে ভারত-বিরোধী জিগির বজায় রাখতে চাইছেন। সেই সুযোগে নির্বাচন আরও পিছিয়ে দিয়ে কট্টরপন্থীদের তিনি সুবিধা করে দিতে পারেন।
চিন সফরে গিয়ে ইউনূস বলেছিলেন, ‘‘ভারতের উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিকে সেভেন-সিস্টার বলা হয়। এগুলি স্থলবেষ্টিত। আমাদের সঙ্গে সমুদ্রের যোগ আছে, চাইলে চিন তা ব্যবহার করে, তাদের অর্থনীতিকে আরও সম্প্রসারিত করতে পারে।’’
মোদী সরকারের বিদেশ নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছে বিরোধীরা। কংগ্রেসের পবন খেরা সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, ‘বাংলাদেশ ভারতকে ঘিরে ফেলার জন্য চিনকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছে। বাংলাদেশের সরকারের এই মনোভাব আমাদের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের নিরাপত্তার পক্ষে বিপজ্জনক। আমাদের বিদেশনীতি এতটাই দুর্বল হয়ে গিয়েছে যে, যে দেশের গঠনে ভারতের প্রধান ভূমিকা ছিল, সেই দেশও আজ আমাদের বিরুদ্ধে শক্তি সংগ্রহে লিপ্ত’।