— প্রতীকী চিত্র।
রাজ্য বিধানসভায় শ্রমমন্ত্রী মলয় ঘটক জানিয়েছিলেন, রাজ্য সরকার মোদী সরকারের তৈরি নতুন শ্রম বিধি মানবে না। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন। রাজ্য সরকার চারটি শ্রম বিধির একটি খসড়া নিয়মাবলি প্রকাশও করেনি।
কিন্তু কেন্দ্রীয় শ্রম মন্ত্রকের দাবি, পশ্চিমবঙ্গ সরকার খসড়া নিয়ম তৈরি করে ফেলেছে। তা প্রকাশের আগে রাজ্যের মন্ত্রীর অনুমোদনের জন্য অপেক্ষা চলছে। কেন্দ্রীয় শ্রম মন্ত্রক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির কাছে লিখিত ভাবে এই বক্তব্য জানানোর পরে বিরোধীরা প্রশ্ন তুলেছেন, মুখে মোদী সরকারের বিরোধিতা করলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার কি তলে তলে কেন্দ্রের শ্রম বিধি কার্যকর করার প্রস্তুতি নিচ্ছে? তৃণমূলের পাল্টা প্রশ্ন, রাজ্য সরকার যে শ্রম বিধির নিয়মাবলি তৈরি করে ফেলেছে, তা মোদী সরকারের কর্তারা জানলেন কী করে? রাজ্যের শ্রম দফতরে তো মোদী সরকারের কোনও প্রতিনিধি নেই!
কেন্দ্রীয় সরকার এপ্রিল মাস থেকেই দেশে নতুন শ্রম বিধি কার্যকর করতে চাইছে। ২৯টি শ্রম আইন বাতিল করে বেতন, শিল্প সম্পর্ক, সামাজিক সুরক্ষা ও কর্মস্থলের নিরাপত্তা সংক্রান্ত এই চারটি বিধি তৈরি হয়েছে। ১০টি কেন্দ্রীয় শ্রমিক সংগঠন এর বিরুদ্ধে ২০ মে দেশজুড়ে ধর্মঘট ডেকেছে। কারণ, নতুন শ্রম বিধিতে স্বল্প মেয়াদে কর্মী নিয়োগ করার ছাড়পত্র থাকবে। তাতে কর্মী-শ্রমিকদের স্বার্থ ধাক্কা খাবে। এই রকম বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আপত্তি তুলেছে শ্রমিক সংগঠনগুলি। শ্রম সংবিধানের যৌথ তালিকাভুক্ত। তাই শ্রম বিধি কার্যকর করতে হলে কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্যকেও নিয়মাবলি তৈরি করতে হবে। গত ১১ মার্চই বিধানসভায় শ্রমমন্ত্রী মলয় ঘটক তাঁর দফতরের বাজেট আলোচনায় জানিয়েছিলেন, রাজ্যে এই বিধি কার্যকর হবে না।
সংসদীয় স্থায়ী কমিটিকে শ্রম মন্ত্রক জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ একমাত্র রাজ্য যেখানে রাজ্য সরকার চারটি বিধির একটিতেও খসড়া নিয়মাবলি প্রকাশ করেনি। তামিলনাড়ুর সামাজিক সুরক্ষা বিধি নিয়ে আপত্তি রয়েছে। অরবিন্দ কেজরীওয়ালের আমলে দিল্লি সরকারের বেতন বিধি বাদে বাকি তিনটি বিধি নিয়ে আপত্তি ছিল। কিন্তু একই সঙ্গে শ্রম মন্ত্রক সংসদীয় কমিটিকে জানিয়েছে, ‘পশ্চিমবঙ্গ সরকার চারটি শ্রম বিধিরই নিয়মাবলি তৈরি করে ফেলেছে। তা প্রকাশ করার আগে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের অপেক্ষা করা হচ্ছে।’ সরকারি পরিভাষায় ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের অর্থ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী।
কেন্দ্রের এই দাবিতে ‘স্তম্ভিত’ রাজ্যের শ্রম দফতর। শ্রম দফতর সূত্রের বক্তব্য, গত বছরের ২০ জুন কেন্দ্রীয় শ্রম মন্ত্রক এ বিষয়ে ভার্চুয়াল বৈঠক করে। সেখানে রাজ্যের শ্রম দফতরের কর্তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গ নতুন শ্রম বিধি মানছে না। তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠন আইএনটিটিইউসি-র রাজ্য সভাপতি তথা সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশ্ন, ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, রাজ্যে শ্রম বিধি কার্যকর হবে না। কেন্দ্রীয় সরকার কোথা থেকে জানল যে রাজ্য সরকার শ্রম বিধির নিয়মাবলি তৈরি করেছে? এই নিয়মের খসড়া তৈরি হলে তা আইন দফতরের ছাড়পত্র নিয়ে হয়। রাজ্যে মলয় ঘটক একইসঙ্গে শ্রম ও আইন দফতরের মন্ত্রী। তিনি বিধানসভায় যা বলার বলে দিয়েছেন। পুরোটাই কেন্দ্রের বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা।’’