শিবরাত্রি উপলক্ষে বসবে দশ দিনের জল্পেশ মেলা। তারই প্রস্তুতি। মঙ্গলবার। ছবি: দীপঙ্কর ঘটক।
শিবরাত্রির পুজোর পাশাপাশি আগামী ১০ দিন ধরে মেলা আজ, বুধবার শুরু হচ্ছে জল্পেশ মন্দিরে। ইতিমধ্যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মন্দির কমিটির সম্পাদককে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়েছেন। শিবরাত্রিকে ঘিরে প্রচুর ভক্তের সমাগম জয়ন্তীতেও। মহাকুম্ভে পদস্পৃষ্টের কথা মাথায় রেখে জয়ন্তীতে এ বছর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আর কড়া করা হয়েছে। তাতে নজর রাখছেন খোদ আলিপুরদুয়ার জেলার পুলিশ সুপার ওয়াই রঘুবংশী।
পুজো কমিটি সূত্রে জানা গিয়েছে, শিবরাত্রিকে ঘিরে জমকালো আলোয় সাজিয়ে তোলা হয়েছে ঐতিহ্যবাহী জল্পেশ মন্দির। মন্দির কমিটির সম্পাদক গিরীন্দ্রনাথ দেব বলেন, ‘‘আমরা খুবই আনন্দিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, সময় করে তিনি এই মন্দিরে আসবেন। মন্দিরের পাশাপাশি মেলার মাঠ সম্পূর্ণ ভাবে প্রস্তুত রয়েছে। যেখানে ব্যবসায়ীরা পসরা সাজিয়ে বসেছেন।’’
উত্তরবঙ্গ তো বটেই পার্শ্ববর্তী রাজ্য অসম, বিহার পার্শ্ববর্তী দেশ নেপাল থেকে প্রচুর পুণ্যার্থী জল্পেশ মন্দিরে পুজো দিতে আসেন। কাজেই মন্দিরের পাশাপাশি এ বারের মেলাও অনেকটাই জমজমাট হবে বলে আশা ব্যবসায়ীদের। গত বছর মেলায় আখের রস বিক্রি করে ৬০ হাজার টাকা রোজগার করেছিলেন ময়নাগুড়ির বিডিও অফিস এলাকার বাসিন্দা দীনেশ রায়। দীনেশের আশা, এ বছর তাঁর রোজগার এক লাখ
টাকা ছাড়াবে।
পুজো কমিটি সূত্রে জানা গিয়েছে, মেলা এবং মন্দিরে সব রকম নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। মন্দিরে পুলিশের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করা হয়েছে। স্বর্ণকুণ্ডে থাকছে সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা। জল্পেশের শিব চতুর্দশীর এই উৎসব সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন করতে বদ্ধপরিকর জলপাইগুড়ি জেলা প্রশাসন থেকে শুরু করে মন্দির কমিটির কর্তারা।
অন্য দিকে, জঙ্গলে ঢোকার ক্ষেত্রে প্রবেশমূল্য উঠে যেতে বক্সায় মানুষের ভিড় অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। এই অবস্থায় শিবরাত্রিকে ঘিরে হাজার হাজার মানুষের ভিড় করতে শুরু করেছেন জয়ন্তীতে। কুম্ভের মতো পদস্পৃষ্টের ঘটনা যাতে জয়ন্তীতে না-ঘটে, তা নিয়ে এ বছর তৎপরতা দেখা গিয়েছে আলিপুরদুয়ার জেলা পুলিশে। নিরাপত্তায় জেলার পুলিশকর্মী ও আধিকারিকদের পাঠানো হয়েছে সেখানে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে মঙ্গলবার জয়ন্তীতে হাজির ছিলেন আলিপুরদুয়ার জেলার পুলিশ সুপার ওয়াই রঘুবংশী। তিনি বলেন, ‘‘শিবরাত্রিকে ঘিরে নিরাপত্তার প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা জয়ন্তীতে নেওয়া হয়েছে।’’ এ দিন রাজাভাতখাওয়া গেটে গিয়েছিলেন আলিপুরদুয়ারের বিধায়ক
সুমন কাঞ্জিলালও।