আতরের সুগন্ধে মজেছেন এক ক্রেতা। —নিজস্ব চিত্র।
বিগত একমাস ধরে চলছিল পবিত্র রমজান মাস। রোজা পালনের পাশাপাশি খুশির ইদের অপেক্ষায় ছিলেন সকলেই। নতুন পোশাক, কাঁচের চুড়ি থেকে ফেজ় টুপি— এ সব কেনা হয়েছিল আগেই। এ বার ইদের ঠিক একদিন আগে সুগন্ধী আতরের দোকানে ভিড় বাড়িয়েছেন মানুষজন। ফলে ইদের মরসুমে আতরের ব্যবসা বেশ ভালই হচ্ছে বলে জানাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।
পাঁশকুড়া শহরে মোট ছ’টি আতরের দোকান রয়েছে। সারা বছরই দোকানগুলি থেকে আতর, ফেজ় টুপি, সুরমা-সহ একাধিক প্রসাধনী সামগ্রী বিক্রি হয়। ব্যবসায়ীরা মূলত কলকাতার বড়বাজার, ক্যানিং, বাগরি মার্কেট থেকে আতর সংগ্রহ করে আনেন। তারপর পাঁশকুড়া স্টেশন সংলগ্ন কলেজ রোড, পুরনো বাজারে পসরা সাজিয়ে চলে বিকিকিনি। আধুনিক বেশিরভাগ ‘পারফিউমে’ অ্যালকোহল জাতীয় একাধিক দ্রব্য ব্যবহার করা হলেও, আতরে তার নামমাত্রও ব্যবহার হয় না। গোলাপ, জুঁই, চন্দন-সহ একাধিক প্রাকৃতিক সুগন্ধির সংমিশ্রণে তৈরি হয় আতর। খোঁজ নিয়ে জানা গেল, কলকাতার কারখানাগুলিতে তৈরি হওয়া আতরের তুলনায় জেলার বাজারে মুম্বইয়ে তৈরি আতর বিক্রি হচ্ছে বেশি।
ক্রেতাদের পছন্দের উপরও নির্ভর করছে আতরের বিক্রি। কারণ— অনেকের একটু হালকা ধরনের সুগন্ধী পছন্দ। কেউ আবার গাঢ় গন্ধওয়ালা সুগন্ধী পছন্দ করেন। এক বিক্রেতা জানালেন, হালকা গন্ধের আতরের মধ্যে রয়েছে ‘ওপেন ব্লাড’। আবার একটু গাঢ় গন্ধওয়ালা সুগন্ধী যাঁরা পছন্দ করেন, তাঁরা কিনছেন ‘জন্নতি ফিরদৌস’। সেই তালিকায় রয়েছে ‘৬৯ মাজ়মা’ও। রবিবার সকাল থেকেই এলাকার বিভিন্ন দোকানে ভিড় করেছেন ক্রেতারা। হাতের উপর আতর লাগিয়ে গন্ধ বুঝে পছন্দসই আতর কেনার চেষ্টায় মগ্ন তাঁরা। আতর বিক্রেতারা জানাচ্ছেন, সারা বছর দিনে গড়ে ৫০০ টাকার বিক্রিবাট্টা হলেও, ইদের সময় বিক্রি বেড়ে যায় অনেকটাই। জানা গেল, যে ফেজ় টুপি সারা বছর ১০০ টাকায় বিক্রি হয়, সেই টুপি ইদের মরসুমে বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়। অন্য দিকে, যে আতর দাম অনুযায়ী ৩০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হত, তা বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৫০ টাকা বেশি দরে। ফলে বাড়ছে মুনাফা। এ ব্যাপারে পাঁশকুড়ার কনকপুরের আতর ব্যবসায়ী আব্বাস আলি শেখ বলেন, ‘‘অন্য বছরের তুলনায় এ বছর আতরের চাহিদা অনেকটাই বেশি। ৬০ হাজার টাকার আতর কিনে এনেছিলাম কলকাতা থেকে। কিন্তু চাহিদা বেশি হওয়ার কারণে আরও ৪০ হাজার টাকার আতর কিনতে হয়েছে। খরচ বাড়লেও রোজগার হয়েছে ভালই।’’ দিঘার বাসিন্দা তথা ক্রেতা শাহ আলমের কথায়, ‘‘আরবের বিদেশি আতরের অনেক দাম। তাই শখ থাকলেও ওগুলোতে হাত দিতে পারি না। তাই মুম্বইয়ের তৈরি আতরই আমার বরাবরের পছন্দের।’’