ফাইল চিত্র।
সবং: নদী চরে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে ইটভাটা। সঙ্গে বাড়ছে মাছের ভেড়িও। প্রশস্ত নদীপথ ক্রমেই হয়েছে সঙ্কীর্ণ। তার উপরে ইটভাটার বর্জ্যে কমছে নদীর নাব্যতা। ১২ বছর পরে কেলেঘাই ছাপিয়ে এলাকা প্লাবিত হতেই ইটভাটা ও মাছের ভেড়ির বেআইনি কারবারকে দুষছেন ব্লকবাসী। উদাসীনতার জেরে এমন ঘটনা বলে মানছেন রাজ্যের মন্ত্রীরাও।
সবং ব্লকে এ বার বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিতে এমন বেআইনি ইটভাটা ও ভেড়ির কারবার প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। কেলেঘাই নদীর চর বরাবর বেড়ে চলা এই কারবারের জেরেই প্লাবিত হয়েছে সবং। নদীর প্রবাহে বাধা হওয়ায় জল বেরোতে না পারার জেরেই এই ঘটনা বলে মনে করা হচ্ছে। এমনকি নদীবক্ষে জল বেঁধে মাছ চাষে পরিস্থিতি আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে। শুধু সবং নয়, পিংলাতেও জলমগ্ন পরিস্থিতির পিছনে চণ্ডীয়া নদী ঘিরে একই কারবারকে দুষছে এলাকাবাসী। বিষয়টি নিয়ে সরব হয়ে সবংয়ের বিধায়ক তথা জলসম্পদ উন্নয়নমন্ত্রী মানস ভুঁইয়া বলছেন, “অধিকাংশ ইটভাটা ও ভেড়ি বেআইনি। আমি যখন সেচমন্ত্রী ছিলাম তখন এগুলি সরিয়ে দিয়েছিলাম। সৌমেন মহাপাত্র সবে সেচমন্ত্রী হয়েছেন। তার আগে যিনি দায়িত্বে ছিলেন, তাঁর এ সব দেখা উচিত ছিল।” এমন মন্তব্যকে সমর্থন জানিয়ে সেচমন্ত্রী সৌমেন বলেন, “আমি মানসদার সঙ্গে একমত। সবংয়ে এ সব কোনও আমলে হয়েছে আমি এখন বলব না। আমি সেচমন্ত্রী হওয়ার দু’বছর আগে এ সব হয়েছে। এই ইটভাটা ও ভেড়ির প্রায় একশো শতাংশ বেআইনি। বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীর নজরেও এনেছি।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, চণ্ডীয়া নদীর পিংলা-সবংয়ের সীমানা ছফুকার ও কেলেঘাই নদীর লাঙলকাটা থেকে ঢেউভাঙা পর্যন্ত এই ইটভাটা রয়েছে। শুধু কেলেঘাই নদীচরেই প্রায় ৩২টি এমন ইটভাটা রয়েছে। অভিযোগ, অপরিকল্পিত ভাবে মাটি কেটে ইটভাটার কাজে লাগানোয় ক্ষতি হচ্ছে নদী বাঁধের। ভাটার বর্জ্য ফেলে দেওয়া হচ্ছে নদীতে। নাব্যতা কমছে নদীর। গত কয়েক বছর ধরে এই নিয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছে পরিবেশরক্ষা সমন্বয় মঞ্চ। ওই মঞ্চের আহ্বায়ক সবংয়ের বাসিন্দা স্কুলশিক্ষক শান্তনু অধিকারী বলেন, “নদীচরে এমন বেআইনি কারবারে ৮০০ ফুট চওড়া নদী ২৫০ ফুট হয়ে গিয়েছে।” কাঁটাখালির নদীচরের একটি ইটভাটার মালিক সুদর্শন প্রধান অবশ্য বলেন, “জীবিকা ও দু’শো মানুষের কর্মসংস্থান চলে এই ইটভাটায়। নদীর জল ইটভাটার জন্য গড়াতে পারছে না বলে মানস ভুঁইয়া যেটা বলছেন, সেটা ঠিক নয়। বরং আমরা নদীর পলি তুলছি। আর বর্জ্য তো বিক্রি হয়ে যাচ্ছে।”
মানস অবশ্য এবার কড়া হাতে মোকাবিলায় প্রস্তুত হচ্ছেন। তিনি বলেন, “চর দখল করে, বাঁধ ধ্বংস করে এ সব চলছে। নদীর জল গড়াতে পারছে না। ইট নদীর চরে পড়ে রয়েছে। এই নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।” বিষয়টি নিয়ে সেচমন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র বলেন, “এর সঙ্গে তো অনেকগুলি দফতর জড়িয়ে রয়েছে। একা সিদ্ধান্ত নিতে পারি না। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ মেনে কাজ করব।”