প্রতীকী ছবি।
তাঁর গাড়িতে ধাক্কা মারার প্রতিবাদ করেছিলেন যুবক। সে জন্য অভিযুক্ত পুলিশ স্টিকার সাঁটা গাড়িটি তাঁর পায়ে ধাক্কা মেরে বনেটের উপরে ফেলে টেনে নিয়ে যায় প্রায় এক কিলোমিটার। কোনওমতে সেই গাড়ির বনেট আঁকড়ে ধরে বাঁচানোর জন্য আর্তনাদ করলেও এগিয়ে আসেননি কেউ। উল্টে ওই অবস্থায় হিঁচড়ে কিছুটা নিয়ে গিয়ে ওই পড়ুয়াকে মারধর করেন চালকের আসনে বসে থাকা কলকাতা পুলিশের অফিসার।
শুক্রবার রাতের ঘটনার আতঙ্ক এখনও তাড়া করে বেড়াচ্ছে খড়দহের বাসিন্দা, এমবিএ পড়ুয়া রবি সিংহকে। অভিযোগ পেয়ে রবিবার খড়দহ থানার পুলিশ গ্রেফতার করে লেক থানার ওই সাব-ইনস্পেক্টর সৌমেন দাসকে। সোমবার তাঁকে ব্যারাকপুর মহকুমা আদালতে তোলা হলে তিনি জামিন পান। এতেই আরও আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন রবি। তাঁর কথায়, ‘‘গ্রেফতার হওয়ার এক দিনের মধ্যেই ওই অফিসার যে ভাবে ছাড়া পেয়ে গেলেন, তাতে আরও আতঙ্কিত বোধ করছি। আবার না আমার উপরে হামলা হয়!’’ রবির দাদা জয় সিংহ বলেন, ‘‘যে ঘটনা আমার ভাইয়ের সঙ্গে ঘটেছে, তা সভ্য সমাজে মেনে নেওয়া যায় না। আমরা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাব।’’ আজ, মঙ্গলবার রবি ও তাঁর পরিজনেরা ব্যারাকপুরের পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মার সঙ্গে দেখা করবেন। পানিহাটির তৃণমূল নেতা কমল দাস বলেন, ‘‘পুলিশ কমিশনারের কাছে অনুরোধ, অভিযোগের তদন্ত করে ওই অফিসারের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হোক। এঁদের মতো লোকের জন্য সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে।’’
পানিহাটির শহিদ কলোনির বাসিন্দা সৌমেন এর আগেও বিভিন্ন সময়ে উর্দি পরে স্থানীয়দের উপরে চড়াও হয়েছেন বলে অভিযোগ। রাজ্য দুর্নীতি দমন শাখার হাতেও বছর আটেক আগে গ্রেফতার হয়েছিলেন ওই সাব-ইনস্পেক্টর। সূত্রের দাবি, সে সময়ে তিনি কসবা থানায় কর্মরত ছিলেন। জমি-বিবাদ সংক্রান্ত একটি মামলায় তদন্তকারী অফিসার ছিলেন সৌমেন। অভিযোগ, নিজের প্রভাব খাটিয়ে তিনি ওই জমির মালিককে তা দখল করতে বাধা দিচ্ছিলেন। মালিক শেষে দুর্নীতি দমন শাখার দ্বারস্থ হন।
এ দিকে লালবাজার জানিয়েছে, ওই অফিসার দীর্ঘদিন ধরে লেক থানায় আসছেন না। অসুস্থতার জন্য ছুটি নিয়ে ছিলেন। তার পর থেকে কাজে যোগ দেননি। তাঁর বিরুদ্ধে কী অভিযোগ দায়ের হয়েছে, সেই খোঁজ নিচ্ছে লালবাজার। সব তথ্য হাতে পেলে সৌমেনের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে কলকাতা পুলিশ সূত্রের খবর।
সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, Twitter এবং Instagram পেজ।