হেমতাবাদে মুখ্যমন্ত্রীর সভায় সুরক্ষাব্যবস্থায় ফাঁক ধরা পড়ার পর ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হল।
মঙ্গলবার রাজ্যের একগুচ্ছ আইপিএস অফিসারকে বদলির যে তালিকা বেরিয়েছে, তাঁদের মধ্যে ডিরেক্টরেট অফ সিকিওরিটির এআইজি নীলাঞ্জন বিশ্বাসও রয়েছেন। তাঁকে সাউথ-ওয়েস্ট ডিভিশনের ডিসি পদে বদলি করা হয়েছে। শো-কজ করা হয়েছে উত্তরবঙ্গের একজন ডিএসপি, এক জন ইন্সপেক্টরকে। ক্লোজ করা হয়েছে দু’জন কনস্টেবলকে। বদলি হলেন ইসলামপুরের এসডিপিও।
প্রসঙ্গত, মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তায় গাফিলতি নিয়ে দু’টি আলাদা তদন্ত রিপোর্ট তৈরি করছেন রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং ডিজি সিকিওরিটি। সেই সব রিপোর্ট সামনে আসার আগেই এধরনের ব্যবস্থা নিয়ে কোনও কোনও মহলে প্রশ্ন উঠেছে। তবে উত্তর দিনাজপুরের পুলিশ সুপার শ্যাম সিংহের বক্তব্য, ‘‘ইসলামপুরের এসডিপিও-র বদলির সঙ্গে হেমতাবাদে মুখ্যমন্ত্রীর সভার সম্পর্ক নেই। ওই সভায় নজরদারিতে গাফিলতির অভিযোগে দু’জন কনস্টেবলকে ক্লোজ, একজন ডিএসপি ও ইন্সপেক্টরকে শো-কজ করা হয়েছে।’’
যে দুই কনস্টেবলকে ক্লোজ করা হয়েছে, তাঁরা উত্তরবঙ্গে জেলা পুলিশ লাইনে কর্মরত। শো-কজ করা হয়েছে জেলা গোয়েন্দা বিভাগের এক ডিএসপি, ট্র্যাফিকের এক ইন্সপেক্টরকে। এসডিপিও কুমার ভূষণ সিংহ সে দিন সভায় ট্র্যাফিক ও পার্কিংয়ের দায়িত্বে ছিলেন। অথচ মুখ্যমন্ত্রী সভাস্থল থেকে চলে যাওয়ার এক ঘণ্টা পরও রায়গঞ্জ-বালুরঘাট রাজ্য সড়কে যানজট ছিল। জেলা পুলিশের আর এক কর্তার দাবি, কুমারবাবুকে সভায় ঢোকার রাস্তায় নজরদারির দায়িত্ব সামলাতে দেখা গিয়েছে। কিন্তু করণদিঘির দুই বোন সেই রাস্তা দিয়ে ঢুকে পড়েন। একজন পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রীর কাছে।
কুমারবাবুকে ডিসেম্বরে উত্তর দিনাজপুরেরই অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের পদে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। জেলায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের পদ ফাঁকা না হওয়ায়, তিনি ওই পদে যোগ দিতে পারেননি। এখন তাঁকে ঝাড়গ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের পদে বদলি করা হল।