এই সাংবাদিক বৈঠকেই শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছেন, ওবিসি সমীক্ষাকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া মামলায় যুক্ত হতে আবেদন জানাবে বিজেপির ওবিসি মোর্চা। —নিজস্ব চিত্র।
অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি (ওবিসি)-র তালিকা পুনর্বিবেচনা করতে রাজ্য সরকার যে সমীক্ষার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাকে চ্যালেঞ্জ করে ইতিমধ্যেই মামলা দায়ের হয়েছে কলকাতা হাই কোর্টে। সেই মামলায় যুক্ত হতে চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছে বিজেপি। এমনটাই ঘোষণা করলেন রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। মামলায় যুক্ত হতে পারলে জাতীয় ওবিসি কমিশনকেও মামলায় টেনে আনার আর্জি জানানো হবে বলে শুভেন্দু জানিয়েছেন।
বুধবার বিকেলে মুরলীধর সেন লেনে বিজেপির পুরনো রাজ্য দফতরে সাংবাদিক বৈঠক করেন বিরোধী দলনেতা। সঙ্গে ছিলেন বিজেপির ওবিসি মোর্চার রাজ্য সভাপতি অজিত দাস। শুভেন্দুর অভিযোগ, অবৈধ ভাবে রাজ্যে নতুন করে ওবিসি সমীক্ষার কাজ শুরু হয়েছে। বিডিওদের কাছে কোনও লিখিত নির্দেশ পাঠানো হয়নি বলে তাঁর দাবি। শুভেন্দুর কথায়, ‘‘অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দফতরের সচিবের নির্দেশে এ সব হয়েছে। কোনও লিখিত নির্দেশ পাঠানো হয়নি। মুখে মুখে নির্দেশ দিয়ে সমীক্ষা শুরু করা হয়েছে।’’ সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দু একটি ভিডিয়ো দেখান। সেই ভিডিয়োয় দু’জনের মধ্যে কথোপকথন দেখা গিয়েছে। ভিডিয়োয় এক জনকে নন্দীগ্রাম-১ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি হিসাবে এবং অন্য জনকে সেখানকার বিডিও হিসেবে দাবি করা হয়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তি সমীক্ষার বিষয়ে ‘লিখিত নির্দেশ’ দেখতে চাইছেন। বিডিও হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তি জানাচ্ছেন, কোনও লিখিত নির্দেশ তাঁর কাছে নেই। অনগ্রসর কল্যাণ দফতর থেকে তাঁকে মৌখিক ভাবে বলা হয়েছে এই সমীক্ষা শুরু করতে। এ কথা শুনে প্রথম ব্যক্তি সমীক্ষা বন্ধ করে দিতে বলছেন।
এই ভিডিয়ো দেখিয়ে বিরোধী দলনেতা দাবি করেন, রাজ্য সরকার বেআইনি ভাবে এই সমীক্ষা শুরু করেছে। এর বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই কলকাতা হাইকোর্টে যে মামলা দায়ের হয়েছে, বিজেপির ওবিসি মোর্চা তাতে যুক্ত হওয়ার জন্য আবেদন জানাতে চলেছে। জাতীয় অনগ্রসর শ্রেণি কমিশনের তৈরি ওবিসি তালিকাকে অগ্রাহ্য করে অন্য কোনও ওবিসি তালিকা তৈরি করা ‘অবৈধ’ তথা ‘বেআইনি’ বলে বিজেপির দাবি। হাই কোর্টে বিজেপির তরফ থেকে সে বিষয়টিও তুলে ধরা হবে বলে শুভেন্দু জানান।
রাজ্যে ওবিসি শংসাপত্র পদ্ধতি মেনে দেওয়া হয়নি, এই অভিযোগ তুলে প্রথমে কলকাতা হাই কোর্টে মামলা দায়ের হয়েছিল। ২০২৪ সালের ২২ মে বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার ডিভিশন বেঞ্চ ২০১০ সালের পর থেকে তৈরি সব ওবিসি শংসাপত্র বাতিল করে দেয়। হাই কোর্টের নির্দেশে প্রায় ১২ লক্ষ শংসাপত্র অকেজো হয়ে যায়। উচ্চ আদালতের ওই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যায় রাজ্য। তবে সে মামলার রায় আসার আগে রাজ্যই আবার সুপ্রিম কোর্টকে জানায় যে, ওবিসি তালিকা নতুন করে যাচাই করতে রাজ্য সরকার ফের সমীক্ষা শুরু করছে। সেই সমীক্ষার জন্য রাজ্য তিন মাস সময় চায়। শীর্ষ আদালত সে সময় দিয়েছে। কিন্তু নতুন করে রাজ্যে সমীক্ষা শুরুর সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাই কোর্টে আবেদনও জমা পড়ে গিয়েছে। মামলাকারী আইনজীবী বিক্রম বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, ২০১০ সালের পরে তৈরি রাজ্যের সব ওবিসি শংসাপত্র বাতিল করেছে হাই কোর্ট। সুপ্রিম কোর্ট ওই নির্দেশের উপর কোনও স্থগিতাদেশ দেয়নি। এই অবস্থায় নতুন করে ওবিসি চিহ্নিত করতে রাজ্য নতুন সমীক্ষা শুরু করতে পারে না বলে মামলাকারী আইনজীবীর মত। এই বিষয়ে দ্রুত শুনানির আর্জি জানান তিনি। প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম এবং বিচারপতি চৈতালি চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে মামলা দায়ের করার অনুমতি দেয়। প্রধান বিচারপতি জানান, দ্রুত শুনানির আবেদন বিবেচনা করা হবে। সেই মামলাতেই এ বার বিজেপির ওবিসি মোর্চাও যুক্ত হতে চাইছে।