মোহনবাগানের ঘরের ছেলে হয়ে গেলেন শিল্টন পাল। দিপান্দা ডিকা, ইউসা কাতসুমির সঙ্গে তিনিও ফের থেকে গেলেন সবুজ-মেরুনে। জাপানের ইউতা অবশ্য পরের মরসুমে শুধু আই লিগের জন্য চুক্তিবদ্ধ হলেন। এঁদের সঙ্গে সন্তোষ ট্রফিতে খেলে তারকা হয়ে যাওয়া তীর্থঙ্কর সরকারকে সই করালেন মোহনবাগান কর্তারা। তবে দুই বিদেশির চেয়েও শিল্টনের পুরনো ক্লাবে থেকে যাওয়াটা বড় চমক।
এত দিন মোহনবাগানের ঘরের ছেলে হিসাবে ধরা হত প্রয়াত শৈলেন মান্না, চুনী গোস্বামী, সুব্রত ভট্টাচার্য এবং সত্যজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে। কারণ এঁরা কেউই ঐতিহ্যের ক্লাব ছেড়ে অন্য কোথাও যাননি। এ বার শিল্টনও সেই তালিকায় নাম লেখালেন। মঙ্গলবার ফের দু’বছরের জন্য চুক্তি করলেন ফেডারেশনের বিচারে দেশের সেরা গোলকিপার। মোহনবাগানকে তেরো বছর পর আই লিগ জেতানো অধিনায়ক এই চুক্তির মেয়াদ শেষ করলে টানা চোদ্দো বছর পরবেন সবুজ-মেরুন জার্সি। তাঁর আগে এখন রয়েছেন সত্যজিৎ। ১৯৮৬ থেকে ২০০০ পর্যন্ত টানা পনেরো বছর খেলেছেন মোহনবাগানের বর্তমান ফুটবল সচিব সত্যজিৎ।
শিল্টনের কাছে আইএসএলের ক্লাব বেঙ্গালুরু, চেন্নাইয়িন ও নর্থ ইস্ট ইউনাইটেডের প্রস্তাব ছিল। ইস্টবেঙ্গলও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। তা সত্ত্বেও কেন থেকে গেলেন মোহনবাগানে? মছলন্দপুরের ছেলে শিল্টন বললেন, ‘‘সোমবার রাত পর্যন্ত ঠিক ছিল চেন্নাইয়িন এফ সি-তে সই করব। ওদের প্রস্তাবটা অনেক টাকার ছিল। তবে ঠিক করেছিলাম, যা-ই করি আগে মোহনবাগানের সঙ্গে কথা বলব। আর্থিক ক্ষতি হলেও ফুটবলার জীবনের সঙ্গে যে আবেগ জড়িয়ে গিয়েছে সেটা থেকে বেরোতে পারলাম না। বারবার মনে হচ্ছিল মোহনবাগান ছেড়ে বাঁচতে পারব না। সে জন্যই সিদ্ধান্ত বদলালাম।’’
শিল্টনের সঙ্গে আই লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা দিপান্দা ডিকাকেও রেখে দিল মোহনবাগান। ভুবনেশ্বরে দু’দিন আগে জোড়া গোল করে সুপার কাপের প্রথম ম্যাচে দলকে জেতানো ডিকার কাছেও আইএসএলের দু’টি ক্লাবের প্রস্তাব ছিল। কিন্তু ক্যামেরুন স্ট্রাইকারকে দলে নিতে মরিয়া ছিলেন কর্তারা। তাঁরা সফল। বাংলা সন্তোষ ট্রফি না পেলেও কপাল খুলল দলের মিডিও তীর্থঙ্করের। চার বছর আগে সবুজ মেরুন জার্সি পরে কিছু করতে পারেননি বেলঘরিয়ার মিডিও। কিন্তু এ বার তাঁর অসাধারণ ফ্রি-কিকের গোল দেখে দলে ফেরালেন সবুজ-মেরুন কর্তারা। তীর্থঙ্কর এখন খেলেন মহমেডানে।