রণকৌশল নিয়ে ভাবতে হবে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে। ছবি: বিসিসিআই।
আইপিএলের শুরুটা ভাল হয়নি গত বারের চ্যাম্পিয়ন কলকাতা নাইট রাইডার্সের। প্রতিযোগিতার প্রথম ম্যাচে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর কাছে ঘরের মাঠে হারতে হয়েছে। বুধবার অজিঙ্ক রাহানের দলের দ্বিতীয় প্রতিপক্ষ রাজস্থান রয়্যালস। সঞ্জু স্যামসনেরাও প্রথম ম্যাচে হেরে গিয়েছেন সানরাইজার্স হায়দরাবাদের কাছে। স্বভাবতই দু’দলের কাছেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দ্বিতীয় ম্যাচ।
গুয়াহাটিতে হার মানেই আইপিএলের শুরুতেই বেশ খানিকটা পিছিয়ে পড়তে হবে। ধাক্কা খেতে পারে ক্রিকেটারদের আত্মবিশ্বাসও। যার প্রভাব পড়তে পারে পরের ম্যাচগুলিতেও। তাই জয় ছাড়া ভাবছে না কেকেআর শিবির। একই ভাবনার শরিক রাজস্থানও। গুয়াহাটিতে প্রথম ম্যাচ। ২২ গজ অপরিচিত দু’দলের ক্রিকেটারদের কাছেই। ব্যতিক্রম প্রথম তিন ম্যাচে রাজস্থানের অধিনায়ক রিয়ান পরাগ। অসমের অলরাউন্ডারের ঘরের মাঠ এ বার রাজস্থানে দ্বিতীয় ‘হোম’। পিচ, পরিবেশ সম্পর্কে মূল্যবান তথ্য রিয়ানের কাছ থেকে পাবেন রাহুল দ্রাবিড়। ফলে কেকেআরের লড়াই তুলনায় কিছুটা কঠিন।
বিরাট কোহলিদের কাছে হারা প্রথম একাদশে পরিবর্তন করতে পারে কেকেআর। মূলত জোরে বোলিং আক্রমণ নতুন করে সাজাতে পারেন কোচ চন্দ্রকান্ত পণ্ডিত। একই সঙ্গে তাঁর নজর থাকবে দলের মিডল অর্ডার নিয়েও। প্রথম ম্যাচে বেঙ্কটেশ আয়ার, রিঙ্কু সিংহ, আন্দ্রে রাসেল, রমনদীপ সিংহেরা রান পাননি। রাহানে এবং সুনীল নারাইন দলকে ব্যাট হাতে ভাল জায়গায় পৌঁছে দেওয়ার পরও সুবিধা কাজে লাগাতে পারেননি কলকাতার অন্য ব্যাটারেরা। অঙ্গকৃশ রঘুবংশী ছাড়া কেউই দলের ইনিংসকে সাহায্য করতে পারেননি। প্রথম ম্যাচে কিছুটা সাদামাঠা দেখিয়েছে বরুণ চক্রবর্তীকেও। কেকেআর শিবিরের আর এক চিন্তা ফিল্ডিং। বেঙ্গালুরু ম্যাচে একাধিক ক্যাচ ধরতে পারেননি কলকাতার ক্রিকেটারেরা। সব মিলিয়ে বেশ কয়েকটি জায়গায় উন্নতি করতে হবে কেকেআরকে। রাজস্থানের ব্যাটিং লাইন আপ যথেষ্ট শক্তিশালী। যশস্বী জয়সওয়াল, সঞ্জু ছাড়াও রয়েছেন রিয়ান, ধ্রুব জুরেলের মতো ব্যাটারেরা। আছেন দু’বছর আগে কেকেআরের অধিনায়ক নীতীশ রানাও। হালকা ভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।
গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
ক্রিকেটের তিনটি বিভাগেই যেমন উন্নতি প্রয়োজন, তেমনই দরকার বিকল্প পরিকল্পনা। ইডেনে কেকেআরের প্ল্যান ‘বি’ দেখা যায়নি। বোলার রাসেলকে ব্যবহার করেননি রাহানে। অন্য বোলারেরা রান দিলেও অভিজ্ঞ অলরাউন্ডারকে আক্রমণে আনেননি। অধিনায়ক হিসাবে পরিকল্পনার অভাব দেখা গিয়েছিল।
অচেনা মাঠে রাজস্থানের বিরুদ্ধে জিততে হলে কেকেআরকে সব ক্ষেত্রেই আগের দিনের থেকে ভাল পারফর্ম করতে হবে। রাজস্থানের বোলিং তুলনায় দুর্বল। জফ্রা আর্চার প্রথম ম্যাচে হতাশ করেছেন। বাকিরাও উল্লেখযোগ্য কিছু করতে পারেননি। এই সুযোগ কাজে লাগাতে হবে কেকেআর ব্যাটারদের। এই একটি জায়গাতেই কিছুটা হলেও সুবিধাজনক জায়গায় রয়েছে নাইট শিবির। এই সুবিধা কাজে লাগিয়ে এ বারের আইপিএলের প্রথম পয়েন্ট ঘরে তুলতে পারে কেকেআর।