পাহাড়ের কোলে পাইন গাছের জঙ্গলে ঘেরা ছোট্ট একটি গ্রাম। ভোর হতেই কুয়াশায় ঢেকে যায় জঙ্গলটি। উত্তরাখণ্ডের এই জঙ্গলের সঙ্গেই জড়িয়ে রয়েছে ‘ভূতুড়ে’ কাহিনি।
উত্তরাখণ্ডের মুসৌরি ম্যাল রোড থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে রয়েছে লাম্বি দেহার খনি। চুনাপাথরের এই খনিটি রয়েছে পাইন জঙ্গলে ঘেরা একটি নির্জন জায়গায়।
স্থানীয়দের একাংশের দাবি, অন্ধকার নামলে লাম্বি দেহার খনির আশপাশের এলাকা এড়িয়ে চলেন তাঁরা।
স্থানীয়দের দাবি, নানা ধরনের আলো এবং কান্নার শব্দ শুনতে পাওয়া যায় খনির ভিতর থেকে। এই খনিতেই নাকি এখনও আটকে রয়েছে হাজার হাজার শ্রমিকের ‘প্রেতাত্মা’।
স্থানীয়দের দাবি, ১৯৯০ সালে চুনাপাথরের খনির ভিতরে নেমেছিলেন প্রায় ৫০ হাজার শ্রমিক। খনির ভিতরে শ্রমিকদের নিরাপত্তার কোনও ব্যবস্থা ছিল না।
হঠাৎ খনির ভিতরে থাকা শ্রমিকেরা অসুস্থ হয়ে পড়তে শুরু করেন। হাওয়া চলাচলের কোনও বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় শ্বাসরোধ হয়ে মারা যান তাঁরা।
তবে শ্রমিকদের মৃত্যুর নেপথ্যকারণ এবং সংখ্যা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন স্থানীয়দের একাংশই। কেউ কেউ মনে করেন, এক ‘প্রেতাত্মা’র অভিশাপেই নাকি একসঙ্গে ৫০ হাজার শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছিল।
শ্রমিকদের মৃত্যুর পর মুসৌরির লাম্বি দেহার খনি বন্ধ করে দেওয়া হয়। তার পর থেকেই নাকি সন্ধ্যার পর ওই এলাকা দিয়ে যাতায়াতের সময় কান্নার শব্দ শুনতে পেতেন স্থানীয়েরা।
স্থানীয়দের অনুমান, খনির ভিতরে যে শ্রমিকেরা মারা গিয়েছিলেন এই কান্নার শব্দ তাঁদের অতৃপ্ত ‘আত্মা’দের।
খনির সামনে দিয়ে গেলে নাকি যাত্রীদের মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করেন কেউ কেউ।
স্থানীয়দের একাংশের মতে, লাম্বি দেহার খনির কাছে ‘প্রেতাত্মা’ ঘুরে বেড়ায়। সন্ধ্যার পর ওই এলাকা দিয়ে কোনও গাড়ি যাতায়াত করলে তার কবলে পড়েন যাত্রীরা।
‘প্রেতাত্মা’র শিকার হয়ে দুর্ঘটনায় মারা যান গাড়ির চালক, যাত্রীরাও। লোকমুখে ‘প্রেতাত্মা’র কথা এতটাই ছড়িয়ে পড়ে যে লাম্বি দেহার খনি যেন সন্ধ্যার পর এক নিষিদ্ধ এলাকায় পরিণত হয়।
লাম্বি দেহার খনি থেকে যে আলো বা শব্দ শোনা যায় তার নেপথ্যে আসলে কী রয়েছে তার সত্যতা এখনও জানা যায়নি। উত্তরাখণ্ডের এই খনি এখন পরিত্যক্ত।