পায়ে ব্যথা খুব ভোগাচ্ছে, কী রোগ হচ্ছে জানেন? ছবি: ফ্রিপিক।
পায়ে ব্যথা কমবেশি সকলেরই হয়। কিন্তু যদি দেখেন, পায়ের পেশিতে মাঝেমধ্যেই টান ধরছে, হাঁটুর নীচ থেকে প্রচণ্ড যন্ত্রণা হচ্ছে, তা হলে সতর্ক হতেই হবে। পায়ের ব্যথা মানেই কিন্তু বাত নয়। এর কারণ অনেক কিছুই হতে পারে। তবে চিকিৎসকেরা বলেন, শুলে পায়ের পাতা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া, কাফ মাসলে যন্ত্রণা হওয়া মানেই একটি বিশেষ রোগের লক্ষণ।
কী রোগ বাসা বাঁধছে?
রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল জমছে। হাইপারকোলেস্টেরোলেমিয়ার একটি লক্ষণই হল পায়ের পেশিতে ব্যথা। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলে ‘পেরিফেরাল আর্টারি ডিজ়িজ়’ (পিএডি)।
রক্তে কোলেস্টেরলের স্বাভাবিক মাত্রা প্রতি ডেসিলিটারে ২০০ মিলিগ্রাম হওয়া উচিত। তা যদি বেড়ে গিয়ে ২৪০ মিলিগ্রাম হয়ে যায়, তা হলেও বলা হয় কোলেস্টেরল বাড়ছে। সতর্ক করেন চিকিৎসকেরা। কিন্তু যদি কোলেস্টেরলের মাত্রা এর চেয়েও বেশি হয়, তখন রক্তে এত বেশি প্রোটিন ও ফ্যাট জমা হতে শুরু করে, যা রক্তজালিকাগুলিকে ছিঁড়েখুঁড়ে দেয়। ফলে রক্তপ্রবাহ বাধা পায়। খারাপ কোলেস্টেরল, অর্থাৎ ‘লো ডেনসিটি লাইপোপ্রোটিন’ বা এলডিএলের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হলেই তা রক্তবাহী ধমনীতে জমতে শুরু করে। ফলে রক্তপ্রবাহ বাধা পেয়ে প্রদাহ শুরু হয়। তখন যন্ত্রণা হয়।
রক্তে কোলেস্টেরল জমছে কি না, তা বাইরে থেকে বোঝার তেমন উপায় নেই। এই বিষয়ে চিকিৎসক অরুণাংশু তালুকদারের মত, চোখের চারপাশে হলদেটে মাংসপিণ্ড গজাতে শুরু করলে তা কোলেস্টেরলের লক্ষণ বলে ধরা হয়। কিন্তু তা সকলের ক্ষেত্রে হয় না। তাই পায়ে ব্যথা, পেশিতে টান ধরার মতো লক্ষণ বার বার দেখা দিতে থাকলে সতর্ক হতে হবে। বিশেষ করে শোয়ার পরে পায়ের পাতা ঠান্ডা হয়ে যেতে পারে। পা অসাড়ও হয়ে যায় অনেকের। এই সবই পেরিফেরাল আর্টারি ডিজ়িজ়’ (পিএডি)-এর লক্ষণ হতে পারে। আরও একটি উপসর্গ দেখা দেয়, তা হল পায়ের পাতায় নীল রঙের শিরা ফুটে ওঠা। এটির কারণ হল, খারাপ কোলেস্টেরল জমে রক্তের মাধ্যমে অক্সিজেন পৌঁছতে পারে না পায়ে। তখন ত্বকের রং বদলাতে থাকে, নীলচে-বেগনি শিরা ফুটে ওঠে।
কোলেস্টেরল কমাতে হলে খাওয়াদাওয়ায় নজর দিতেই হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ, বাইরের খাবার, ভাজাভুজি, ঠান্ডা পানীয় আগে বন্ধ করতে হবে। বাড়িতে কম তেলে রান্না খাবারই খেতে হবে। সেই সঙ্গে রাশ টানতে হবে অ্যালকোহলে। তা হলেই কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকবে।