— প্রতীকী চিত্র।
বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দলিত, আদিবাসী এবং অনগ্রসর ছাত্রছাত্রীদের জন্য আসন সংরক্ষণের দাবি তুলল কংগ্রেস।
জনসংখ্যায় যার যত ভাগ, সেই অনুযায়ী অংশীদারি নিশ্চিত করতে রাহুল গান্ধী অনেক দিন ধরেই জাতগণনার দাবি তুলছেন। আজ কংগ্রেস মোদী সরকারের কাছে দাবি তুলেছে, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তফসিলি জাতি, জনজাতি, ওবিসি ছাত্রছাত্রীদের জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যক আসন সংরক্ষিত রাখতে কেন্দ্রীয় সরকার আইন তৈরি করুক। কংগ্রেসের প্রধান মুখপাত্র জয়রাম রমেশের যুক্তি, এ জন্য ২০০৫ সালে ইউপিএ সরকারের আমলে সংবিধানে ৯৩-তম সংশোধনী করে একটি নতুন ১৫(৫) অনুচ্ছেদ যোগ করা হয়েছিল। যা ২০০৬ সালের ২০ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়। তার পরে এই সংবিধান সংশোধন আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়লেও বিচারবিভাগ তাতে সিলমোহর দিয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রকের সংসদীয় স্থায়ী কমিটি রিপোর্টে জানিয়েছে, পরিসংখ্যান অনুযায়ী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তফসিলি জাতি, জনজাতি, ওবিসি-দের প্রতিনিধিত্ব খুবই কম। স্থায়ী কমিটি সুপারিশ করেছে, সমাজের সব অংশকে উচ্চ শিক্ষায় সুযোগ দেওয়া সরকারি-বেসরকারি সমস্ত উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব। সে কারণে সংবিধানের ১৫ (৫) অনুচ্ছেদ কার্যকর করতে নতুন আইন তৈরি করা দরকার।
আজ কংগ্রেস সংসদীয় দলের সভানেত্রী সনিয়া গান্ধী এক নিবন্ধে লিখেছেন, মোদী জমানায় জাতীয় শিক্ষা নীতির নামে শিক্ষা ক্ষেত্রের কেন্দ্রীকরণ, বাণিজ্যকরণ ও গৈরিকীকরণ হয়েছে। রমেশের যুক্তি, ২০০৮ সালে সুপ্রিম কোর্ট রাজ্য সরকার চালিত ও রাজ্যের অর্থসাহায্যে চলা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আসন সংরক্ষণে শিলমোহর দিয়েছিল। কিন্তু বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেয়নি। ২০১১ সালে সুপ্রিম কোর্ট বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সংরক্ষণে এবং ২০১৪ সালে সংবিধানের ১৫(৫) অনুচ্ছেদে সিলমোহর দিয়েছে। এর অর্থ হল, সংবিধানে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আসন সংরক্ষণের অনুমোদন রয়েছে।