পরিবারের ধারা মেনে তিনিও সুদর্শন। কিন্তু সঞ্জয় কপূর তাঁর বাকি দুই ভাইয়ের মতো যশ ও খ্যাতির অংশীদার হতে পারেননি।
বনি কপূর নামী প্রযোজক। অনিল কপূর এখনও চুটিয়ে অভিনয় করছেন। অন্য দিকে, সঞ্জয় কপূর কবে অভিনয় শুরু করলেন, কবেই বা বিদায় নিলেন, দর্শকরা টেরই পেলেন না।
সঞ্জয় কপূরের প্রথম ছবি ছিল তব্বুর বিপরীতে। ছবির নাম ‘প্রেম’। সম্পর্কের গুঞ্জনে তব্বুর নাম অনেক নায়কের সঙ্গে জড়িয়েছে। কিন্তু তাঁর হৃদয়ে কে সত্যি সত্যি আসন পেতেছিলেন, তা জানা যায়নি। সেটা এখনও ইন্ডাস্ট্রিতে রহস্য।
তবে ‘প্রেম’ ছবির সময়ে সঞ্জয়-তব্বুর প্রণয় নাকি সত্যি দানা বেঁধেছিল, ইন্ডাস্ট্রিতে এই গুঞ্জন বহু দিন ধরেই শোনা যায়।
১৯৯৫ সালে মুক্তি পেয়েছিল ‘প্রেম’। সেই সময় সঞ্জয় কপূর ইন্ডাস্ট্রিতে নবাগত। আর, তব্বু তখনও সে ভাবে ‘তারকা’ হয়ে ওঠেননি। ফলে তাঁদর মধ্যে বন্ধুত্ব জমতে সময় লাগেনি। ধীরে ধীরে সেই বন্ধুত্ব বদলে গিয়েছিল প্রেমে।
শুটিংয়ের সেটে তাঁরা একসঙ্গে, একান্তে অনেকটা সময় কাটাতেন। দু’জনকে দেখা যেত বিভিন্ন জায়গায়।
কিন্তু তাঁদের প্রেমে ফাটল ধরে। শোনা যায়, তব্বুর জীবনে নাকি প্রযোজক সাজিদ নাদিদওয়ালা চলে এসেছিলেন। ফলে সঞ্জয় কপূরের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বেড়ে যায়।
সঞ্জয় ও তব্বুর সম্পর্কের এই টানাপড়েনের জন্যই নাকি ‘প্রেম’ ছবিটি শেষ হতে সময় লাগে ছ’বছর! কারণ তাঁদের প্রেম ভেঙে যাওয়ার পরে তাঁরা একসঙ্গে কাজ করতে চাইছিলেন না। দু’জনে দু’জনকে এড়িয়ে চলছিলেন।
ফলে নায়ক নায়িকাকে এক জায়গায় এনে কাজ করানোই দুষ্কর হয়ে পড়েছিল প্রযোজক বনি কপূরের পক্ষে। তাঁদের সম্পর্কের ওঠানামার মাশুল দিতে হয়েছিল এই ছবিকে।
একে তো ছ’বছর লাগে ছবির কাজ শেষ হতে। তার উপর মুক্তির পরে ছবি বক্স অফিসে ব্যর্থ হয়। ফলে ইন্ডাস্ট্রিতে পথ চলা শুরু করার আগেই সঞ্জয় কপূরের নামের পাশে ‘ফ্লপ নায়ক’ পরিচয় বসে যায়।
তবে সঞ্জয় কপূর বা তব্বু, দু’জনের কেউ এই ঘনিষ্ঠতা যেমন লুকিয়ে রাখেননি, তেমনই প্রকাশ্যে এই সম্পর্ক নিয়ে কিছু বলেনওনি।
তবে ‘প্রেম’ ছবিটি তার নায়ক-নায়িকা দু’জনের কেরিয়ার এবং সম্পর্কের গ্রাফের কোথাওই কোনও বিশেষ মাত্রা যোগ করতে পারেনি।