Pollution

দূষণ দাপট

দেশে ‘ন্যাশনাল ক্লিন এয়ার’ (এনসিএপি) নামক যে কর্মসূচিটি চালু রয়েছে সেটি কোন উদ্দেশ্য সাধন করছে? প্রশ্ন ওঠা সঙ্গত। ভারতে এ-যাবৎ সর্বাধিক ব্যয়বহুল বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি এটি।

Advertisement
শেষ আপডেট: ২৬ মার্চ ২০২৫ ০৬:২০
Share:

টাকা বরাদ্দ হয়েছে। ষোলোটি ভারতীয় শহরের জন্য আট বছর ধরে ১০০০ কোটির কাছাকাছি। উদ্দেশ্য ছিল, লাগামছাড়া বায়ুদূষণকে নিয়ন্ত্রণ। কিন্তু সে কাজ হয়নি। প্রমাণ, সম্প্রতি আইকিউএয়ার নামে এক সুইস এয়ার কোয়ালিটি টেকনোলজি কোম্পানির প্রকাশিত সমীক্ষায় বিশ্বের সর্বাধিক দূষিত ৫০টি শহরের মধ্যে এই ষোলোটি শহরের জায়গা করে নেওয়া। প্রশ্ন উঠেছে, দেশে ‘ন্যাশনাল ক্লিন এয়ার’ (এনসিএপি) নামক যে কর্মসূচিটি চালু রয়েছে সেটি কোন উদ্দেশ্য সাধন করছে? প্রশ্ন ওঠা সঙ্গত। ভারতে এ-যাবৎ সর্বাধিক ব্যয়বহুল বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি এটি। বিশ্বে অন্যতম। অথচ, এই ষোলোটি শহর তার আওতায় থাকা সত্ত্বেও বিশ্বের দূষণ মানচিত্রে লাল দাগ হয়েই রইল। শুধুমাত্র তা-ই নয়, তালিকায় ভারতীয় শহরগুলির মধ্যে ১০টিতে এনসিএপি চালু থাকার পাশাপাশি সেগুলি স্মার্ট সিটিও বটে। সুতরাং, এ দেশে নগরোন্নয়ন প্রকল্পগুলি আদৌ পরিবেশবান্ধব কি না, সে প্রশ্নও উঠে আসছে।

Advertisement

সমীক্ষাটি করা হয়েছে ১৩৮টি দেশে ৪০,০০০-এরও বেশি বাতাসের গুণমান পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত পিএম ২.৫-এর পরিসংখ্যানকে বিচার করে। পিএম ২.৫ সর্বাধিক ক্ষতিকারক ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বায়ুদূষণকারী কণা, যাকে ফুসফুসের নানাবিধ জটিল অসুখ সৃষ্টির জন্য দায়ী করা হয়। দিল্লির মতো বড় শহরগুলিতে যে বায়ুদূষণ ক্রমশ বল্গাহীন হয়ে উঠছে, এবং তজ্জনিত কারণে ফুসফুসের রোগ প্রায় মহামারির চেহারা নিচ্ছে, তার অন্যতম কারণ বাতাসে পিএম ২.৫-এর প্রবল উপস্থিতি। অথচ, ২০২৩ থেকে ২০২৪— পিএম ২.৫-এর উপস্থিতি হ্রাস পেয়েছে মাত্র ৭ শতাংশ। এখনও বিশ্বের সবচেয়ে বেশি দূষিত ১০টি শহরের মধ্যে ছ’টিই ভারতের। ভারত বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত দেশগুলির মধ্যে পঞ্চম স্থানে রয়েছে। অথচ, ২০১৯ সাল থেকে এনসিএপি কর্মসূচির আওতায় ১৩০টি শহরের জন্য প্রায় সাড়ে এগারো হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। তার ইতিবাচক প্রভাব কোথায়?

বরং প্রাথমিক ভাবে দেশের বাতাসে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণার উপস্থিতি ২০-৩০ শতাংশ কমিয়ে বাতাসের গুণমান বৃদ্ধির জন্য ২০২৪ সালকে পাখির চোখ ধরলেও, পরবর্তী কালে ২০২২ সালেই সেই লক্ষ্যমাত্রা ২০২৬-এর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। বলা হয়েছিল পূর্বোক্ত ২০-৩০ শতাংশ নয়, ‘পিএম কনসেনট্রেশন’ কমানো হবে ৪০ শতাংশ। সমীক্ষায় প্রমাণ, সেই লক্ষ্যমাত্রা থেকে এখনও অধিকাংশ ভারতীয় শহরই বহু দূরে। যানবাহন, কলকারখানা থেকে নির্গত ধোঁয়া, নির্মাণ বর্জ্য এবং ফসলের গোড়া পোড়ানো বিশেষত উত্তর ভারতের দূষণের অন্যতম কারণ। দৃশ্যতই, এ-যাবৎ কাল শহরাঞ্চলে দূষণ ঠেকাতে যে সমস্ত পদক্ষেপ করা হয়েছে, সেগুলি যথেষ্ট নয়। দূষণ প্রতিরোধে শুধুমাত্র অর্থ বরাদ্দই যথেষ্ট নয়, দরকার সুসংহত দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং আইনের কঠোর প্রয়োগ। এবং প্রয়োজন রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে দূষণকে সমগ্র দেশের সঙ্কট হিসাবে ভাবার অভ্যাস। এ দেশের নীতিনির্ধারকরা অবশ্য এখনও সে অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেননি। গত অক্টোবরে সুপ্রিম কোর্ট নির্মল দূষণমুক্ত বাতাসে শ্বাস নেওয়া নাগরিকের মৌলিক অধিকার বলে রায় দিয়েছিল। দূষণ ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট রাজ্য ও কেন্দ্রকে ভর্ৎসনা করছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত— এ চেয়ে লজ্জার ছবি আর কী হতে পারে?

Advertisement

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement