রজনীগন্ধা গাছ বড় করতে কোন ধরনের মাটি, সারের দরকার? ছবি: শাটারস্টক
ভালবাসা, বিরহ, দুঃখ— সমস্ত জৈবিক অনুভূতির সঙ্গেই যেন এই ফুলের নিবিড় যোগ। অন্নপ্রাশন হোক বা বিবাহবাসর— খোঁজ পড়ে ধবধবে সাদা ফুলের। আবার অন্তিম যাত্রাতেও থাকে এই ফুলের উপস্থিতি।
রাতভর সুবাস ছড়ানোর জন্য এই ফুলের নাম রজনীগন্ধা। বাগানে কয়েকটি ফুটে থাকলেই তার সৌরভ টের পাওয়া যায়। মূলত গ্রীষ্ম এবং বর্ষাতেই ফোটে ফুলটি। বাড়িতে রজনীগন্ধা বসাতে চাইলে, কী ভাবে গাছটি বড় করবেন?
১। সাধারণত কন্দ থেকেই নতুন গাছ পাওয়া যায়। সরাসরি কন্দ না বসিয়ে কন্দ থেকে বেড়ে ওঠা পাতা-সহ গাছও নার্সারি থেকে কিনতে পারেন। এতে গাছ বড় করতে সুবিধাও হবে। এপ্রিল মাসে গাছ বসালে জুলাই, অগস্টের মধ্যেই ফুল মিলবে। ৮-১০ ইঞ্চি টব এ জন্য আদর্শ।
২। গাছের জন্য মাটি প্রস্তুতির আগে টবের জল নিষ্কাশনে জোর দেওয়া জরুরি। রজনীগন্ধা গাছের গোড়ায় জল জমলে গাছ মরে যেতে পারে। সে কারণে টবের নীচে কিছু টুকরো পাথর, ভাঙা ইটের টুকরো ছড়িয়ে দিন। তার পর ছড়িয়ে দিন কয়েক মুঠো বালি। সাধারণত টবের নীচে একটি ছিদ্র থাকে। তবে টবে একাধিক ছিদ্র থাকলে বা করে নেওয়া সম্ভব হলে, তা এই গাছের জন্য ভাল।
৩। রজনীগন্ধার জন্য দোআঁশ বা বালিযুক্ত মাটি ভাল। বেলেমাটির সঙ্গে কোকোপিট মিশিয়ে নিন। যোগ করুন গোবর সার। রজনীগন্ধার মাটি যেন সামান্য আর্দ্রতা ধরে রাখতে পারে তা দেখতে হবে। তবে গাছের গোড়ায় জল জমা চলবে না কোনও মতেই।
৪। এই গাছের জন্য যথেষ্ট সূর্যালোক প্রয়োজন। অন্তত ৬ ঘণ্টা গাছ রোদে রাখা দরকার। ২০-৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রজনীগন্ধার জন্য ভাল। মোটামুটি ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাও গাছ সহ্য করতে পারে। তবে ৪০ ডিগ্রির বেশি তাপমাত্রা এই গাছের জন্য ভাল নয়।
৫। গাছ বেড়ে ওঠার সময় দরকার সারের। জৈব সার হিসাবে খোল পচা জল প্রয়োগ করতে পারেন ২০ দিন অন্তর। টবের মাটি আলগা করে জল ছড়িয়ে দিতে হবে। সর্ষের বদলে নিম খোলও ব্যবহার করা যায়। পাকা কলার খোসা গুঁড়িয়ে ২ চা-চামচ করে প্রয়োগ করতে পারেন। ফুল আসার সময় অনেক সময় পটাশিয়ামের দরকার হয়। সেই চাহিদা পূরণ করবে কলার খোসার সার।
৬। ফুল ফুটলে ছুরি দিয়ে কেটে নিন। পুরোপুরি ফোটার আগে গোড়া থেকে কেটে জল ডুবিয়ে রাখলেও ফুল ফুটবে।